রবিবার, এপ্রিল ২১

অধীর চৌধুরীকে জেতাতে লাল ঝাণ্ডা কাঁধে কান্দিতে মিছিল বামেদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কে বলবে এ রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের দীর্ঘ জোট আলোচনায় জল পড়ে গিয়ে তা ভেস্তে গিয়েছে? বহরমপুর লোকসভা যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে জেতাতে ময়দানে নেমে পড়ল সিপিএম।

শুক্রবার কান্দিতে বামফ্রন্টের ব্যানারে বিরাট মিছিল হয়। সেই মিছিল থেকে আওয়াজ একটাই। বিজেপি-কে হঠিয়ে কেন্দ্রে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গড়তে বহরমপুর থেকে অধীর চৌধুরীকে হাত চিহ্নে ভোট দেওয়ার স্লোগান।

গত মাসে কেরলে জনসভা করতে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। বিজেপি-কে আক্রমণের পাশাপাশি কেরলের শাসক দল সিপিএম-কে তেড়ে আক্রমণ করেছিলেন রাহুল। বলেছিলেন, “সিপিএমের ওই মতাদর্শ এখন আঁস্তাকুড়ে চলে গিয়েছে।” এরপর উত্তর-দক্ষিণের বেড়া ঘোচাতে অমেঠীর পর দ্বিতীয় কেন্দ্র হিসেবে কেরলের ওয়ানাড়ে প্রার্থী হয়েছেন রাহুল। যে দিন এআইসিসি এই ঘোষণা করে, সে দিন বিকেলেই সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য প্রকাশ কারাট তোপ দেগেছিলেন রাহুলের বিরুদ্ধে। বলেছিলেন, “ঐক্যবদ্ধ হয়ে কংগ্রেসকে হারাব।”

প্রকাশ কারাট বা রাহুল গান্ধী যাই বলুন কেরল নিয়ে, বহরমপুর যেন সব কিছুর বাইরে। বামফ্রন্ট আগেই বলেছিল বহরমপুর ও দক্ষিণ মালদহে তারা প্রার্থী দেবে না। রাজ্য বামফ্রন্টে তা সিদ্ধান্তও হয়। এমনিতে বহরমপুর আসন বাম শরিক আরএসপি-র ভাগের। সেখানে বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল ঈদ মহম্মদকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ক্ষিতি গোস্বামী গিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে হাত তুলে সূর্য মিশ্র, বিমান বসুদের বলে দিয়েছেন জেলা আরএসপি কোনও কথা শুনছে না। তিনি নিরুপায়। দুদিন আগেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক দলীয় মুখপত্রে বিবৃতি দিয়ে বলেন, “বহরমপুরে ফ্রন্টের কোনও প্রর্থী নেই।”

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জেগেছিল, তাহলে কী করবে বাম কর্মীরা? ভোটের সময় হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? উত্তর দিয়ে দিল কান্দির সিপিএম। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ফলে দুটি ঘটনা ঘটল। এক, আরএসপি প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল সিপিএম। এবং দুই, মানুষকে বার্তা দিল ঈদ মহম্মদ ফ্রন্টের প্রার্থী নন।

প্রসঙ্গত, কেরলে বাম জোটে নেই আরএসপি। বরং কংগ্রেসের নেতৃত্বে চলা ইউডিএফ-এর শরিক তারা। রাজনৈতিক মহালের মতে, অধীরের হয়ে সিপিএমের পথে নামার পিছনে অন্য একটি কৌশলও থাকতে পারে। কী সেই কৌশল? তাঁদের মতে, মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস অধীর কেন্দ্রিক। ফলে বহরমপুরে তাঁকে সমর্থন করলে পাশের মুর্শিদাবাদ আসনে তিনি যদি তলায় তলায় সিপিএম-কে একটু সাহায্য করে দেন। গতবার মুর্শিদাবাদ আসন জিতেছিল সিপিএম। বিদায়ী সাংসদ বদরুদ্দোজা খানকেই এ বারও প্রার্থী করা হয়েছে সেখানে।

অধীরকে সমর্থন করা নিয়ে মুর্শিদাবাদের সিপিএমও দ্বিধাবিভক্ত। সূত্রের খবর একাধিক নেতা অধীরের হয়ে রাস্তায় নামার বিরোধিতা জানিয়েছেন দলের ভিতর। ছাত্র ফ্রন্ট থেকে উঠে আসা এক নেতা তো ঘরোয়া আলোচনায় রসিকতা করে বলেছেন, “বুঝতেই পারি না বাংলা থেকে নির্বাচিত পলিটব্যুরোর সদস্যরা দিল্লিতে একে গোপালন ভবনে যান নাকি তুঘলক রোডে মিটিং করে কলকাতায় ফিরে আসেন!”

তবে কান্দির এই ছবি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।

Shares

Comments are closed.