পৃথক রাজ্য ও এনআরসি চালুর দাবিতে জেলায় জেলায় আন্দোলনের ডাক ভূমিপুত্র ঐক্য মঞ্চের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকপঞ্জির দাবিতে উত্তাল অসম। এ বার রাজ্যেও সেই দাবি তুলে, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে অবস্থান নির্দিষ্ট করতে তৈরি হলো ভূমিপুত্র ঐক্য মঞ্চ। কেন্দ্রের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে এই মঞ্চের তরফে ঘোষণা করা হলো এনআরসি নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা না হলে জেলায় জেলায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

ভূমিপুত্র আক্য মঞ্চের চেয়ারম্যান বংশীবদন বর্মন বলেন, “আমরা দীর্ঘ দিন থেকে মার্জার এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী গ্রেটার কোচবিহার বা আলাদা রাজ্য চাই। তার নাম কামতাপুর বা গ্রেটার কোচবিহার যাই হোক না কেনো। আমরা আমাদের দাবির লক্ষ্যে রাজ্য এবং কেন্দ্র উভয়ের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে চালাবো।”

সূত্রের খবর, বংশীবদন বর্মন ও কেপিপি নেতা অতুল রায়ের নেতৃত্বেই তৈরি হয়েছে এই মঞ্চ। অতুল গোষ্ঠীর দাবি, রাজবংশী ভোটে বিভিন্ন ভাবে থাবা বসাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। অথচ পৃথক রাজ্যের দাবিকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং মার্জার এগ্রিমেন্ট করে আলাদা রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করা হবে।

অসমে এনআরসি চালু করার সময় থেকেই তার বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছিল তৃণমূল। শুধু কলকাতায় নয়, অসমেও দলের প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা। অসমে এনআরসি চালুর প্রতিবাদে রাজ্যেও একাধিক কর্মসূচি নিয়ে বিজেপি-বিরোধী জনমত তৈরির চেষ্টা করেছিলেন শাসক দলের শীর্ষনেতারা। মঞ্চের চেয়ারম্যান বংশীবদন বর্মনের কথায়, “রাজ্য আমাদের বোর্ডে রেখেছে। কিন্তু এই বোর্ড দিয়ে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই আন্দোলন করতে গিয়ে যদি সরকার আমাদের রাজ্যের কামতাপুর বোর্ড থেকে বের করে দেয় তো দেবেন। কিন্তু আলাদা রাজ্য চাই।”

তিনি আরও বলেন, পৃথক রাজ্য ও এনআরসি-র দাবিতে কেন্দ্রের কাছে পাঁচ দফা জাবি জানানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতে মিছিল করে জেলাশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা করা হবে।

দাবিগুলি কী কী?

১) মার্জার এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী আলাদা রাজ্য।

২) মার্জার এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী নারায়ণী রেজিমেন্ট চাই।

৩) মার্জার এগ্রিমেন্ট মাফিক কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের মাথা থেকে জেলাশাসককে সরিয়ে ভূমিপুত্রকে বসাতে হবে।

৪) সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ কে ভিত্তি বছর ধরে এই রাজ্যে দ্রুত এনআরসি চালু করতে হবে।

৫) কোচবিহার মহারাজার দেওয়া টাকা, গ্রেটার কোচবিহার রাজ্যের বাসিন্দাদের উন্নতির স্বার্থে খরচ করতে হবে।

কেপিপি নেতা অতুল রায় বলেছেন, “রাজ্যের বিভিন্ন নেতা মন্ত্রী বলেছেন অসম থেকে বিতাড়িতদের উত্তরবঙ্গে স্থান দেওয়া হবে। আমাদের বক্তব্য উত্তরবঙ্গ ধর্মশালা বা অনাথ আশ্রম নয়। তাই বলে অন্য জাতির মানুষদের তাড়িয়ে দেবো সেটা নয়। তবে আমরা চাই ১৯৭১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এই রাজ্যে এনআরসি চালু হোক।  এই ব্যাপারে আমরা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-সহ আরো বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে আন্দোলনে সামিল হওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা চালাচ্ছি। “

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More