বুধবার, অক্টোবর ১৬

সব ভূতুড়ে! রাত বাড়লেই হানা দেয় মৃত কিশোরীর আত্মা, ভয়ে সিঁটিয়ে গ্রামবাসীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: রাতের বেলা বাড়ি থেকে বিশেষ বার হতে চান না গ্রামবাসীরা। অন্ধকারে পথে দেখলেই নাকি পিছু নেয় বাচ্চা ভূত। কচিকাঁচাদের নাকি আরও বেশি পছন্দ তার। সমবয়সি দেখলেই খেলতে চায় খালি। নদিয়ার কল্যাণী পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভুট্টা বাজার এলাকা রীতিমতো ভয়ে কাঁটা এমন কিশোরী ভূতের উপদ্রবে। কচি গলায় নিশির ডাক নাকি রাতবিরেতেই প্রায় শোনা যায় গ্রামের আনাচেকানাচে। দরজা-জানলা সেঁটেও রেহাই নেই, ঘরবাড়ি ফেলে তাই পালাতে শুরু করেছেন গ্রামবাসীরা।

ভূতের হানা শুরু হয়েছে ঠিক এক সপ্তাহ আগে থেকে। গ্রামের বয়স্কদের দাবি, ১৩ বছরের মেয়ে সোনির মৃত্যুর পর থেকেই নাকি এই ভূতুড়ে ব্যাপার শুরু হয়েছে গ্রামে। ভূত দেখার দাবি যাঁরা করেছেন, তাঁদের কথামতো ভূতের থুড়ি বাচ্চা ভূতের সঙ্গে নাকি সোনির চেহারার বিস্তর মিল। এমনকি, সোনির পরিবারেরও দাবি, তাদের বাড়ির মেয়ে মৃত্যুর পরে আবার ফিরে এসেছে গ্রামে। শুধু ফিরেই আসেনি, লোকজনকে রীতিমতো অতীষ্ঠ করে তুলছে সে। ভয়ে সোনির বাবা-মাও বাড়ি ছেড়ে পালাবার উপায় খুঁজছেন।

মৃত কিশোরীর পরিবার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে রবিবার রাতে সাপে কাটে সোনিকে। হাসপাতালের বদলে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়াই ঠিক বলে মনে করেছিলেন সোনির বাবা-মা। ঘণ্টা তিনেক ওঝার ঝাঁড়ফুকে কিশোরীর শরীরের আরও অবনতি হলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণী জওহরলাল নেহুরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় বিষ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেহে। মৃত্যু হয়েছে কিশোরীর।

এর পরের ঘটনা আরও মারাত্মক। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ সৎকারের বদলে সেটি বস্তাবন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার আমলেকাতে। কিশোরীর পরিবারের বিশ্বাস ছিল সেখানকার এক পীঠস্থানে পুজো দিলে নাকি মৃত মেয়ে আবার বেঁচে উঠবে। শেষে দেহে পচন ধরতে শুরু করায়, ফের গ্রামে ফিরে আসে সোনির পরিবার। দেহ সমাধি দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের ধারণা এর পর থেকেই নাকি কিশোরীর আত্মা গ্রামে ঘুরেফিরে বেড়ায়।

এক গ্রামবাসীর দাবি, “আমার বাড়ির ছেলেমেয়ের সঙ্গে খেলতে আসত ওই মেয়েটির আত্মা। সবাইকে মেরে ফেলবে। ”

পুলিশ জানিয়েছে, অন্ধবিশ্বাস এতটাই চেপে বসেছে গ্রামবাসীদের মধ্যে যে, তাদের বোঝানো দুষ্কর হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার কল্যাণী নেহুরু মেমোরিয়াল হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার, পুলিশ ও বিজ্ঞান মঞ্চের লোকজন গ্রামবাসীদের বোঝাতে গিয়ে ব্যর্থ হন। গ্রামে শিবির খুলে সচেতনতার পাঠও দেওয়া হয়। তাতেও নাকি কাজ হয়নি। বিজ্ঞান মঞ্চের লোকজনের দাবি, এই কুসংস্কার এতটাই মারাত্মক আকার নিয়েছে যে গ্রামবাসীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন। রাতের বেলা কেউ বাইরে বার হতে চাইছেন না। ভয় বাড়াতে নানা গুজবও ছড়ানো হচ্ছে গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে,  গ্রামবাসীদের ভয় তাড়াতে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহর থেকে মনোবিদদের এনে ফের সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হবে।

Comments are closed.