সিকিম বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে, খাদে গাড়ি পড়ে মৃত্যু পাঁচ বাঙালি পর্যটকের, জখম শিশু-সহ চার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরমে ছুটিতে হই হই করে সিকিম বেড়াতে গিয়েছিল হুগলির দু’টি পরিবার। সেই আনন্দই পরিণত হলো বিষাদ আর হাহাকারে। রবিবার রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই পরিবারের মোট পাঁচ সদস্যের। গুরুতর জখম এক শিশু ও এক মহিলা-সহ চার জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গাড়ির চালকও।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বাবামন্দির থেকে গ্যাংটকে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এই পর্যটকদের গাড়ি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৪০০ মিটার গভীর খাদে সেটি পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চার জনের। বাকি একজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও চারজন। তাদের মধ্যে রয়েছে একটি পাঁচ বছরের শিশুও। জানা গেছে মৃতদের মধ্যে কলকাতার এক তৃণমূল নেতার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।

সিকিম পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম সন্দীপ কর (‌৪৪), সোমা কর (‌৩১), কাকলি বসু (‌৩১)‌, স্নেহাশিস বসু (‌৪১) ও শুভজিৎ বসু (‌২৬)‌।  ‌‌আহতদের মধ্যে  মহুয়া পাত্র (‌২১) এবং সন্দীপ ও সোমার পাঁচ বছরের ছেলে শৌর্য্য কর। গুরুতর জখম  গাড়ির চালক সুরেশ তামাং এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা।  দুর্ঘটনায় মৃত ও জখম পর্যটকদের সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব।

হুগলির হরিপালের বাসিন্দা এই পর্যটকরা ক’‌দিন আগে সিকিমে বেড়াতে যান। রবিবার তাঁরা ছাঙ্গু হয়ে বাবামন্দির ঘুরে গ্যাংটক ফিরছিলেন। একটি ম্যাক্স গাড়ি ছিল তাঁদের সঙ্গে। পুলিশ জানিয়েছে, সেদিন আবহাওয়া ভালো ছিল না। ঝড়-বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল ছিল, কুয়াশাও ছিল প্রচণ্ড। তার উপর সন্ধে হয়ে যাওয়াতে অন্ধকার নেমে এসেছিল পাহাড়ি পথে।  সাত মাইলের কাছে রাস্তার বাঁক নিতেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রথমে গাড়িটি পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খায়, পরে খাদের মধ্যে গিয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর পুলিশকে দেন স্থানীয়রাই। তাঁরাই প্রথম ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। গাড়ির ভিতর থেকে চার জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বাকিদের নিয়ে যাওয়া হয় সিকিম মণিপাল হাসপাতালে। সেখানে মৃত্যু হয় একজনের। পুলিশ জানিয়েছে,  দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে জে এন রোড ট্যাক্সি ড্রাইভার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও কুয়াশার কারণে উদ্ধারকাজে বিলম্ব হচ্ছে।

দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “আমরা শোকাহত। মৃতদেহ ফেরানোর জন্য সিকিম পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।” পর্যটকদের উদ্ধারের কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরাও। এই সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেছেন,”খবর পাওয়া মাত্রই আমরা প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ শুরু করি। সংগঠনের তরফে প্রয়োজনমতো সাহায্য করা হবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More