মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

বুদ্ধবাবু সকালে ভ্যানিলা আইসক্রিম খেলেন, রক্তচাপ স্বাভাবিক, কথাও বলেছেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইপ্যাপ মেশিন খুলে দেওয়া হয়েছে। রবিবার সকালে ভ্যানিলা আইসক্রিম দিয়েই ব্রেকফাস্ট সেরেছেন বুদ্ধবাবু। মেনুতে পেঁপেও ছিল। চাও খেয়েছেন আরাম করে।

আগের থেকে এখন অনেকটাই ভালো আছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার সকালের মেডিক্যাল বুলেটিনেই উডল্যান্ডস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর রক্তচাপ অনেকটাই স্বাভাবিক। তিনি কথা বলতে পারছেন। খাবারও খেয়েছেন। রবিবার সকালে দেখা গেছে দুর্বলতা আগের থেকে কিছুটা কম। উডল্যান্ডস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বুদ্ধবাবুর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এখন ১০।  আগের তুলনায় বেশি। রক্তচাপও স্বাভাবিক ১১০/৮৫।

শুক্রবার রাতে যখন বুদ্ধবাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেই সময় তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা একেবারেই কমে গিয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে গিয়েছিল কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণও ছিল অনেকটা কম। সে দিন রাত থেকে অক্সিজেন দেওয়া হয় বুদ্ধবাবুকে। দেওয়া হয় এক ইউনিট রক্তও। মেডিক্যাল বোর্ড জানায় অক্সিজেন এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেড়েছে।

রবিবারের মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, টানা ৬-৮ ঘণ্টা বাইপ্যাপ দেওয়া হয়েছে  রক্তে কার্বন-ডাই-অক্সাইড কমানোর জন্য। আজ ফের বুকের এক্স-রে করা হবে। হার্টের সমস্যা আপাতত নেই। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, টানা অক্সিজেন দিলে দুর্বলতা একেবারেই কমে যাবে বুদ্ধবাবুর।

এ দিন সকালে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন সিপিএমের প্রাক্তন পলিটব্যুরোর সদস্য। ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বাড়ি ফেরার। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন, এক্ষুনি বাড়ি ফেরার অনুমতি তাঁরা দিতে পারছেন না। এমনিতে বুদ্ধবাবুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে একটা অরুচি আছেই। কিন্তু সিপিএম নেতারা চাইছেন, একবার যখন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা গিয়েছে, তখন সমস্ত পরীক্ষা করে তারপরই বাড়ি ফেরানো হোক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এ-ও চাইছেন না হাসপাতালের বাইরে গিয়ে কর্মী সমর্থকরা ভিড় করুক।

২০০৯ সাল থেকে বুদ্ধবাবুর সিওপিডি-র সমস্যা। যে কারণে তাঁকে প্লেনে চড়তে বারণ করেছিলেন চিকিৎসকরা। ২০১১ সালের পর শ্বাসকষ্ট এমন জায়গায় যায়, যে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সিঁড়ি দিয়েও উঠতে পারতেন না উনি। ব্যবহার করতে হত লিফট। এমনও দিন গিয়েছে, বুদ্ধবাবুর কনভয় আলিমুদ্দিনে পৌঁছনোর পর দেখা যায় লিফট খারাপ, তখন পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে ফিরে চলে আসতে হয় তাঁকে।

গত আড়াই বছর ধরে গৃহবন্দি বুদ্ধবাবু। মাঝে শ্বাসকষ্টকে ছাপিয়ে গিয়েছিল চোখের সমস্যা। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে গিয়েছিলেন বুদ্ধবাবুর বাড়িতে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করাতে। কিন্তু রাজি হননি বুদ্ধবাবু।

 

Comments are closed.