সোমবার, আগস্ট ১৯

মুকুল রায়ের সঙ্গে আমাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করুন: ইডি-কে কুণাল ঘোষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এর আগে সিবিআইয়ের কাছে তিনিই দাবি জানিয়েছিলেন, কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হোক। সিবিআই পরে তাই করেছিল।

এ বার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছে তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ দাবি করলেন, বিজেপি নেতা তথা একদা তৃণমূলের সেকেন্ডম্যান মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হোক।

বুধবার কুণাল ঘোষকে সারদা কাণ্ডে জেরা করার জন্য ডেকেছিলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কর্তারা। সেই মোতাবেক সকাল সকাল ইডি দফতরে পৌঁছে যান কুণাল। তার পর সেখান থেকে যান সিবিআই দফতরে। কারণ, চিটফান্ড তদন্তে সিবিআই-ও তাঁকে ফের জেরা করতে চেয়েছিল। প্রসঙ্গত, চিটফাণ্ড কাণ্ড নিয়ে সিবিআই-ইডি তালমিল করেই তদন্ত করছে।
ইডি দফতর থেকে বেরোনোর সময়েই কুণাল বলেন, “যখন যে এজেন্সি ডেকেছে, আমি গিয়েছি। সহযোগিতা করেছি। আগামী দিনেও করব”। কুণালের ছেলে পড়াশুনায় বরাবরই মেধাবি। কানপুর আইআইটি-তে ভর্তি হয়েছেন। ছেলেকে সেখানে পৌঁছে দিতে এ দিনই কলকাতার বাইরে যাওয়ার কথা।

সাংবাদিকদের কুণাল বলেন, আজ তাড়া রয়েছে সে কথা ওদের জানিয়েছি। কিন্তু পরে ডাকলেই আবার আসব। এর পরই মুকুল রায়ের সঙ্গে যৌথ জেরার প্রসঙ্গ তোলেন কুণাল। তিনি জানান, মুকুলবাবুর সঙ্গে তাঁকে যৌথ জেরা করা হয় সে ব্যাপারে ইডি ও সিবিআই দুই তদন্ত এজেন্সির কাছেই এ দিন আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “সিবিআই আমাকে বলেছিল রাজীব কুমারের সঙ্গে মুখোমুখি বসতে। আমি সহযোগিতা করেছি। এ বার আমি অনুরোধ করেছি মুকুল রায়ের সঙ্গে বসানো হোক। উনি বর্ষীয়াণ সংগঠক। ওঁর সঙ্গে আমার যৌথ জেরায় তদন্তের উপকার হবে”।

শুধু মুকুল প্রসঙ্গ নয়, এ দিন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়েও প্রশ্নের জবাব দেন কুণাল। এক সময়ে মিঠুনের সঙ্গে কুণালের খুবই ভাল সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী কালে কুণালের মতই সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে মিঠুনেরও নাম ওঠে। এ দিন সে ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে কুণাল বলেন, “মিঠুনদা-কে আমি শ্রদ্ধা করি। সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু মনে রাখবেন, সারদা মিডিয়ায় ওঁর যতটা কাজ করার কথা ছিল, ততটা করে উঠতে পারেননি। অথচ প্রচুর টাকা পেয়েছিলেন” এখানেই থামেননি কুণাল। তিনি বলেন, “সিবিআই-ইডি তদন্ত শুরু করার পর মিঠুনদা টাকা ফেরতের কথা বলেন। যতদিন রাজ্যের হাতে তদন্ত ছিল (রাজ্য সরকার গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিমকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল নবান্ন) ততদিন ওঁর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা মনে হয়নি। যখন আমরা সারদা মিডিয়া বাঁচাতে লড়াই করছি, তখন টাকা ফেরতের জন্য ওনার বিবেক জাগ্রত হয়নি। ফলে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারটি নায়কোচিত বলা যায় না।”

এ দিন সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই কুণাল এ কথাগুলো বলেছেন। তবে এ ব্যাপারে মুকুল রায় বা মিঠুন চক্রবর্তী কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তাঁরা কোনও প্রতিক্রিয়া জানালে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
এ দিন জেরায় সিবিআই ও ইডি কর্তারা তাঁকে কী জিজ্ঞেস করেছেন, তা অবশ্য জানাতে চাননি কুণাল। তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই সে সব বাইরে বলা যাবে না।

Comments are closed.