রবিবার, অক্টোবর ২০

সিবিআইয়ের মতোই ইডিও সক্রিয় কলকাতায়, তিনটি শিম্পাঞ্জি, চারটি মারমোসেট উদ্ধার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্যপ্রাণ নিয়ে বেআইনি লেনদেনে নেমেছে একশ্রেণির পাচারকারীরা, রাজ্য সরকারকে সতর্ক করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি জানিয়েছে, পশু পাচারের বড়সড় চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজ্যে। কলকাতায় এমন একটি চক্রের পাণ্ডার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে  তিনটি শিম্পাঞ্জি ও চারটি মারমোসেট (এক শ্রেণির বাঁদর)। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই সাতটি প্রাণীকে কিনেছে পাচারকারীরা।

খাস কলকাতার বুকে চলছে আন্তর্জাতিক পশুপাচার চক্র, এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিল ইডি। ইতিমধ্যেই কলকাতার নানা জায়গা থেকে সিংহশাবক-সহ লাঙ্গুরের মতো অতিমাত্রায় বিপন্ন প্রাণীদের উদ্ধার করেছে বন দফতরের ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (ডব্লিউসিসিবি) এবং ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল সেল (ডব্লিউসিসিসি)। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পাচারকারীদের এ বার চোখ পড়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানার দিকে।

ইডির অফিসারদের দাবি, এই সাতটি প্রাণী আলিপুর চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ছিল।বিশেষত তিনটি শিম্পাঞ্জি।  যাদের দাম ধরা হয়েছিল ৮১ লক্ষ টাকা করে। আর চারটি বিরল প্রজাতির মারমোসেট যাদের প্রতিটির দাম উঠেছে দেড় লক্ষের কাছাকাছি।  দক্ষিণ আমেরিকার এই বিরল প্রজাতির বাঁদরের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কোটি টাকার কাছাকাছি।

পুলিশ জানিয়েছে, সুপ্রদীপ গুহ নামে এক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। তার কাছে ওই তিনটি শিম্পাঞ্জির দামের তালিকা-সহ অন্যান্য নথি ছিল। মনে করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে যোগ রয়েছে সুপ্রদীপের। তাকে জেরা করা চলছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধরপাকড় সত্ত্বেও পশু নিয়ে বেআইনি লেনদেন থামছে না। শুধুমাত্র এক বার নয়, পাচার করার সময় বার বার হাতবদল হয় পশুদের। বাড়তে থাকে দামও। শেষে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের পাচার করার প্রক্রিয়া চলে। এই বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণ পাচারে বিশ্বব্যাপী সিন্ডিকেট কাজ করছে।  ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড (ডব্লিউ ডব্লিউ এফ) জানিয়েছে, শহরের বুকে বেআইনি ওষুধ এবং অস্ত্রের থেকেও বেশি পাচার হয় বিপন্ন পশুপাখি এবং উদ্ভিদ। বাইরের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত বাংলাদেশ, মায়ানমারে পাচারের জন্য কলকাতাকেই সহজ রাস্তা হিসেবে বেছে নেয় পাচারকারীরা। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই রমরমিয়ে চলছে এই পাচার কাজ।

Comments are closed.