সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

দিদি দেখুন: শত আর্জিতেও আজও সেতু নেই, কাঁকুরহাটিতে রেললাইন ধরেই ঝুঁকির পারাপার

কৌশিক দত্ত, কেতুগ্রাম: সাইকেল নিয়ে রেললাইন পার করে নবগ্রাম-কাঁকুরহাটি স্টেশনে পৌঁছনোটাই নিত্যদিনের রুটিন হয়ে গেছে বাসিন্দাদের। কখনও বা পায়ে হেঁটে। এলাকার সমস্ত মানুষকেই স্টেশনে পৌঁছতে গেলে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় রেললাইন। কারণ, বারবার আবেদন, দুর্ঘটনার পরেও রেল ওভারব্রিজ হয়নি। অগত্যা লাইন পারাপারই ভরসা কাটোয়া আজিমগঞ্জ শাখার কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের কাঁকুরহাটি রেল স্টেশনে।

অজয় নদের এক দিকে কাঁকুরহাটি, আর এক পারে নবগ্রামকে জুড়েছে এই হল্ট স্টেশন। গত তিন মাস ধরে কাটোয়া-আহমেদপুর শাখায় দুটো নতুন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নতুন পায়ে হাঁটা রেলসেতু তৈরির কাজ শুরু হলেও শেষ হয়নি। গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলসেতুটি এমন ভাবে তৈরি হচ্ছে যাতে নবগ্রাম ও কাঁকুরহাটির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ থাকছে না। ফলে সেতু উপর দিয়ে গেলেও হেঁটেই রেললাইন পার হতে হবে তাঁদের। এর উপর ন্যারোগেজ লাইন ব্রডগেজে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে, লাইনের ধারে রাস্তা প্রায় নেই বললেই চলে। সঙ্কীর্ণ দেড় ফুটের রাস্তা ধরেই বিপ্পজ্জনক ভাবে যাতায়াত করতে হয় গ্রামবাসীদের। অসাবধানতায় দুর্ঘটনাও ঘটেছে অজস্র।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত মার্চে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ওভারব্রিজটি আরও লম্বা করে তিন নম্বর প্ল্যাটফর্ম পেরিয়ে নবগ্রাম যাওয়ার মূল রাস্তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তিন মাস কেটে গেলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নতুন টিকিট কাউন্টারটিও নবগ্রামের দিকের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় দেড়শও ফুট দূরে তৈরি হচ্ছে, ফলে টিকিট কাটতে গেলেও ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হতে হয়।

রেল সূত্রে খবর, বছর চারেক আগে কাটোয়া থেকে আমোদপুর লাইন ন্যারোগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। এর পরেই গ্রামবাসীরা দাবি তোলেন, অজয়ের সেতুর উপরে লাইন বরাবর গোয়াই রেলগেট থেকে নবগ্রামে যাওয়ার প্রায় ৬০০ মিটার রাস্তাটি অক্ষত রাখতে হবে। অভিযোগ, গেজ পরিবর্তনের কাজ চলাকালীন ওই রাস্তায় হেঁটে বা মোটরবাইক, সাইকেলে যাতায়াত করা গেলেও ট্রেন চালুর পরে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

প্রস্তাবিত রাস্তার আবেদন জানিয়ে আন্দোলন হয়েছে বহুবার। রেল অবরোধ করেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রস্তাবিত রেলে কাজ দেখতে এলে, হাওড়া ডিভিশনের এসএমআর আরেক চৌধুরীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান কাঁকুরহাটি-নবগ্রামের কয়েক হাজার গ্রামবাসী। রেল লাইনের ধার ধরে অন্তত ৪ ফুট চওড়া রাস্তা বানানোর আবেদন জানান তাঁরা। আশ্বাসও দেওয়া হয় রেলের তরফে। কলেজ পড়ুয়া রণেশ ঘোষের দাবি, “প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি রেল দফতর। রাস্তা না থাকার কারণে গ্রামের উন্নয়ন থমকে গেছে।” কাঁকুরহাটির বাসিন্দা ভিকু ঘোষের অভিযোগ, “আধুনিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন আমরা। গ্রামে না রয়েছে উচ্চ বিদ্যালয়, না রয়েছে কোনও স্বাস্থ্য কেন্দ্র। শিশু এবং প্রসূতিদের নিয়ে গ্রামে ঢুকতে পারে না অ্যাম্বুলেন্স। কারণ রাস্তাই যে নেই। আমরা এ বার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব।”

নবগ্রাম-কাঁকুরহাটিতে রাস্তা না থাকার কথা স্বীকার করেছেন কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি কাটোয়া স্টেশন পরিদর্শনে যান রেলের অফিসার ইসক খান। তাঁর কাছে লিখিত ভাবে রাস্তা তৈরির আবেদন জমা দেন গ্রামবাসীরা। রেল মন্ত্রক থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। যদিও এই আশ্বাসে গ্রামবাসীদের মন গলেনি।

কবে তৈরি হবে রাস্তা? প্রাণ হাতে করে রেললাইন পারাপার বন্ধ হবে কবে? অসাবধানতার বলি হতে হবে না আর কারোকে, কাঁকুরহাটি-নবগ্রামের দাবি এটাই। দিদি যদি একটু দেখেন।

Comments are closed.