শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

বুলবুল কেড়েছে আশ্রয়, শুকনো মুড়ি খেয়ে ত্রাণশিবিরে কাটছে রাত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারও মাটির বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। কারও বাড়ির চাল উড়ে গেছে। অ্যাসবেস্টসের ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টির জলে ভেসেছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। আলো নেই, পর্যাপ্ত খাবার নেই, ঠাসাঠাসি, গাদাগাদি করে ত্রাণশিবিরেই আতঙ্কের রাত কাটাচ্ছেন সাগরদ্বীপবাসী। ঝোড়ো হাওয়ার গর্জনে মাঝেমধ্যেই শিউরে উঠছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। কেঁদে উঠছে কোলের শিশু। শনিবার অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আছড়ে পড়ার পরে এমনই ছবি দেখা গেল সাগরদ্বীপ ও সুন্দরবনের কয়েকটি ত্রাণশিবিরে।

ঠিক কাঁটায় কাঁটায় রাত আটটা। সাগরদ্বীপের উপকূলে ১২৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এক ঝটকায় তছনছ হল উপকূলবর্তী এলাকা। স্থলভাগে ঢোকার পরে তার গতি বেড়ে হল ঘণ্টায় ১৩০-১৩৫ কিলোমিটার। যদিও আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাত বাড়লে ঝড়ের দাপটও বাড়বে। গভীর রাতে তার বেগ বেড়ে হতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। সাগরদ্বীপ থেকে সুন্দরবন পেরিয়ে সে ঢুকবে বাংলাদেশের খেপুপাড়ায়। ঝড়ের গতিপথে পড়বে সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চল।

সুন্দরবনের একটি ত্রাণশিবিরে

ঝড়ের দাপটে ইতিমধ্যেই চরম ক্ষতির মুখে সাগরদ্বীপ ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেঙে পড়েছে মাটির বাড়িঘর, জলে ভাসছে চাষের জমি। মাথায় হাত ধান চাষিদের। একদিকে ধানের ক্ষেত তছনছ হয়েছে, অন্যদিকে ঝোড়ো হাওয়া কেড়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। সন্ধের পর থেকেই সাগরের ধবলাট শিবপুর মৌজার লালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড়শো মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, রাত দশটার পরে ঘরহারাদের সংখ্যা দু’শো ছাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: সাগরদ্বীপে আছড়ে পড়ল বুলবুল, ভেঙে পড়ল গাছপালা-কাঁচা বাড়ি, তছনছ চাষের জমি, বাড়ছে ঝড়ের বেগ

প্রশাসনের তৎপরতায় ঘোড়ামারা দ্বীপের নিচু এলাকা থেকে লোকজনকে আগেই সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। সন্ধে গড়াতে তাঁদেরও ঠাঁই দেওয়া হয় সাগরের স্কুলবাড়িতে। ছোট জায়গায় ঠাসাঠাসি করেই রাত কাটছে আশ্রয়হীনদের।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে আগেই। সাগরদ্বীপ, সুন্দবনের বেশিরভাগ এলাকা প্রায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। হ্যারিকেনের আলোই সম্বল। আশ্রিতদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, এই টিমটিমে আলোও কতক্ষণ জ্বলবে জানা নেই। পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থাও নেই শিবিরে। শুকনো মুড়ি চিবিয়েই খিদে মেটাতে হয়েছে সকলকে। যদিও স্থানীয় বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা জানিয়েছেন, ঝড়বৃষ্টির জন্য রান্নার ব্যবস্থা তেমন করা যায়নি। তবে সকলকে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। বিধায়কের কথায়, “সব মানুষকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য কিছু অসুবিধা হচ্ছে, তবে প্রশাসন পূর্ণ সহযোগিতা করছে। আমরা অসহায় মানুষদের পাশে আছি।”

আরও পড়ুন

আছড়ে পড়েছে বুলবুল, আবহাওয়া দফতর কী বলছে, জানুন দশ তথ্য

Comments are closed.