রবিবার, আগস্ট ১৮

পাথরপ্রতিমায় খুন সিপিএম নেতা, জিভ ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাতে কাকদ্বীপের সিপিএম দম্পতিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় শিউরে উঠেছিল গোটা রাজ্য। লোকসভা ভোটের মুখে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ফের খুন এক সিপিএম নেতা। তাঁর জিভ ছিঁড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। তাদের দিকে আঙুল উঠলেও তা অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

বুধবার ভোরে হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় সিপিএমের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য অজয় মণ্ডলের ক্ষতবিক্ষত দেহ (৫৭)। বাড়ির লোকের অভিযোগ, খুন করে তাঁর দেহ পুকুরে ফেলে চলে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশসুত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা পাথরপ্রতিমা ব্লকের দক্ষিণ লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন অজয়বাবু। সক্রিয় এই বামফ্রন্ট সদস্য গত দুবারের বামফ্রন্টের পঞ্চায়েত সদস্যও ছিলেন।

পেশায় মৎস্যজীবী ছিলেন অজয়বাবু। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘরোয়া সভা শেষ করে বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। তারপর খাওয়া দাওয়া করে রাত নটা নাগাদ মাছ ধরতে যান। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তাঁর খোঁজ শুরু করেন পরিবারের লোকজন। ভোরের দিকে জল থেকে দেহ মেলে তাঁর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাত ভাঙা ছিল তার। সারা দেহে ছিল অজস্র আঘাতের চিহ্ন।

পরিবারের লোকজন জানান, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় পাথরপ্রতিমা পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন অজয়বাবু। তখন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে তৃণমূলের হয়ে মনোনয়ন তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু হার মানানো যায়নি তাঁকে। চারদিন পরে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তিনি।

সিপিএমের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ী বলেন, “পঞ্চায়েত ভোটের সময়ও ওঁর উপর অত্যাচার হয়েছিল। তৃণমূলের কথায় লাল ঝাণ্ডা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেনি বলেই শাসক দল জিভ ছিঁড়ে নিয়ে নৃশংস ভাবে খুন করেছে তাঁকে।”

তবে পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীর জানা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হয়তো দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অজয়বাবুর। স্ট্রোকেও মৃত্যু হওয়া অসম্ভব নয়। আমাদের দলের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনও যোগ নেই। খুনোখুনির রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই।”

তাঁর বাড়ির লোকের প্রশ্ন, যদি স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হত, তবে মাছ ধরা জাল তাঁর হাতের কাছেই থাকতো। এ ক্ষেত্রে অনেক দূরে পড়েছিল জালটি। দেহেও এত আঘাতের চিহ্ন থাকতো না।

দলের নেতার খুনের খবর চাউর হতেই পাথরপ্রতিমা থানায় জমায়েত করেন বামকর্মীরা। শুরু হয় বিক্ষোভ। সিপিএমের দাবি, নিহত অজয় মণ্ডলের ময়নাতদন্ত পুরোটা ভিডিও করতে হবে। সিপিএম নেতাদের আশঙ্কা, প্রমাণ লোপাটের জন্য প্রশাসন যা খুশি করতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই তা কমিশনের একাধিক পদক্ষেপেই পরিষ্কার। মঙ্গলবারই কমিশন জানিয়েছে, বাংলার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, এই খুনের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলার সেই দৈন্যদশাকেই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

Comments are closed.