বাঁকুড়া পুরসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তুঙ্গে, প্রধানকে তোপ উপপ্রধানের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার পুরপ্রধান ও উপ-পুরপ্রধানের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে জল্পনা চলছিলই বিভিন্ন মহলে। মন চাইলেও জেলার উন্নয়নের জন্য কিছু করতে পারছেন না, রাজনীতির শৃঙ্খলে তাঁর হাত-পা বাঁধা বলে আগেই তোপ দেগেছিলেন বাঁকুড়া পুরসভার উপ পুরপ্রধান, তৃণমূল নেতা দিলীপ আগরওয়াল। দিল্লিতে বসে একটি ফেসবুকে পোস্টে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি।  এ বার বাঁকুড়া ফিরে সেই প্রসঙ্গই টেনে এনে সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তকে।

দিলীপবাবু বলেন, ‘‘প্রায় এক বছর ধরে পুরপ্রধানের সঙ্গে আমার মতানৈক্য চলছে। পুরসভার নানা উন্নয়নমূলক কাজ আমাকে অন্ধকারে রেখেই করা হচ্ছে।’’ তাঁর অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী পুরবোর্ডের সভা ডাকার আগে উপ পুরপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে তারিখ ও কর্মসূচী ঠিক করা হয়। কিন্তু পুরপ্রধান সেটা তো করছেনই না, উপরন্তু কোনও কাজেই তাঁর সঙ্গে কোনও রকম সহযোগিতা করছেন না।

বস্তুত, দিনকয়েক আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন দিলীপবাবু। সেখানে সোজাসাপটা লেখা ছিল, বাঁকুড়ার উন্নয়নের জন্য কিছু করতে পারছেন না তিনি। আর তার জন্য দায়ী উপরমহলের চাপ। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “অল আর ফ্রেণ্ডস্ এফবি। বাঁকুড়ার জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছা আছে, বাট রাজনীতির বাধ্যবাধকতার জন্য পারছি না। সবাই তো বুঝতে পারছেন।”

এই পোস্ট শেয়ার হওয়া মাত্রই জলঘোলা শুরু হয়ে যায় নানা মহলে।  বাঁকুড়ার ‘প্রাক্তন’ তৃণমূল নেতা সৌমিত্র খাঁয়ের পর পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দিলীপবাবু কি এই পোস্টের আড়ালে শাসকদলকেই কাঠগড়ায় তুলতে চাইছেন? ওঠে সেই প্রশ্নও। দিলীপবাবু ঠিক কোন ‘বাধ্যবাধকতার’ কথা বলেছেন তা নিয়ে শাসকদলের অন্দরে শুরু হয় কানাঘুষো। ঘটনা প্রসঙ্গে পুরপ্রধানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, সেই পোস্ট তিনি দেখেননি। সবটা জেনেই মন্তব্য করবেন।

দিলীপবাবুর দাবি, কোন ধরনের টেন্ডার ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজ করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুরপ্রধান স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে কয়েক জন ‘পেটোয়া’ ঠিকাদারকে দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজ করিয়ে যাচ্ছেন। এই বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েও লাভ হয়নি বলে দাবি তাঁর। বলেছেন, ‘‘মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত পুরপ্রধান হওয়ার আগে ও পরে তার সম্পত্তির বাড়বাড়ন্ত কতটা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখার জন্য জেলাশাসককে অনুরোধ করেছি।’’

মহাপ্রসাদবাবু অবশ্য উপ পুরপ্রধানের অভিযোগগুলি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।। তাঁর দাবি, ‘‘দশ ফুট দূরত্বে আমাদের দু’জনের চেম্বার। এমন কী হলো যে ওনাকে দিল্লিতে বসে ফেসবুক পোস্ট দিতে হলো। প্রতিটি কাজেরই টেন্ডার হয়েছে, উনি প্রমাণ করুন কোন কাজটা টেন্ডার ছাড়া হয়েছে।’’  সেই সঙ্গে পুরপ্রধান এ-ও দাবি করেন, ‘‘পুরসভার অর্থদফতরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দ্বায়িত্ব দিলীপকে দেওয়া হয়েছে। ওনাকে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। এতদিন কোনও সমস্যা জানাননি তিনি। যদি ওর সত্যিই কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে আমাকে লিখিত ভাবে জানাক। ব্যবস্থা নেব।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More