শনিবার, জুলাই ২০

১২৭ টি পুরসভা ও পুরনিগমের মধ্যে ১০১ টি-তেই হেরেছে তৃণমূল, আজ তাদেরই ভোকাল টনিক দিদির

  • 153
  •  
  •  
    153
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় আপাত ভাবে লোকসভা ভোটের ফলাফল হল, তৃণমূল ২২-বিজেপি ১৮। কিন্তু টেবিলে ফেলে ডি –সেকশন করলে দেখা যাবে, বিপর্যয়ের ছবিটা ভয়াবহ! গোটা রাজ্যের মোট ১২৭ টি পুরসভা ও পুর নিগমের মধ্যে ১০১ টি-তেই পিছিয়ে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল। খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কেন্দ্র ডায়মন্ডবারবার পুরসভাও ব্যতিক্রম নয়।

মঙ্গলবার দুপুরে এই সব পুরসভার সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদের নজরুল মঞ্চে বৈঠকে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের জমি উদ্ধারের জন্য দাওয়াই দেবেন তিনি। হয়তো সেখানে বকুনিও জুটতে পারে বেশ কয়েক জনের কপালে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, এ ভাবে কি সত্যিই জমি উদ্ধার সম্ভব হবে?
তার আগে পুরসভাওয়াড়ি ফলাফলের ছবিটার উপরে চুম্বকে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ময়নাতদন্তই বলছে, ১২৭টি পুরসভার মধ্যে ওয়ার্ড ভিত্তিক ফলাফলের নিরিখে মাত্র ২৬ টিতে জিতেছে তারা। কংগ্রেস জিতেছে বহরমপুর, মালদহ-র মতো দু-চারটে পুরসভা। বাকি সবই চলে গেছে বিজেপি-র দিকে। অথচ মজার কথা হল, বাংলায় ৯৯ শতাংশ পুরসভায় কিন্তু নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। খাতায়কলমে বিরোধীদের অস্তিত্বই কার্যত ছিল না।
পরাজয়ের এই ভয়াবহতা উত্তরবঙ্গে অনেক বেশি। হিসাব মতো ১২৭ টি পুরসভার মধ্যে প্রায় ৫০ টি পুরসভায় লোকসভা ভোটে একটি ওয়ার্ডেও লিড পায়নি তৃণমূল। এর মধ্যে সিংহভাগই উত্তরবঙ্গের পুরসভা। যেমন, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, রায়গঞ্জ, মালদহ ইত্যাদি। পশ্চিমাঞ্চল তথা দক্ষিণবঙ্গেও এমন কিছু পুরসভা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে এমন সব পুরসভায় হেরেছে তৃণমূল, যা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা ছিল না কালীঘাটের। হুগলি জেলার তারকেশ্বর, শ্রীরামপুর, রিষড়া, আরামবাগের মতো পুরসভায় ডাহা হেরেছে তৃণমূল। উত্তর চব্বিশ পরগনায় তো কথাই নেই। আবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় দলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ডহারবার পুরসভার ১৬ টি আসনের মধ্যে ১২টিতেই লিড পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল লিড পেয়েছে মাত্র ৪টি ওয়ার্ডে। শহরের বুকে বিধাননগর পুরসভাতেও নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল বহু ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: Exclusive: উত্তরবঙ্গের দুই জেলা পরিষদ এ বার দখলের পথে বিজেপি, গেরুয়া শিবিরে যেতে পারে আরও চার বিধায়ক

এক মাত্র দুটি পুরসভায় সব কটি ওয়ার্ডে শাসক দল তৃণমূল জিতেছে। দুটি পুরসভাই পূর্ব মেদিনীপুরে। একটা অধিকারী পরিবারের গড় কাঁথি। অন্যটি হলদিয়া।

এখন ঘুরে ফিরে সেই প্রশ্ন আসা যাক। জমি উদ্ধার হবে তো?

এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূলে মমতা ঘনিষ্ঠ এক নেতা ভোটের আগে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভোটের আগে ববি হাকিম কাউন্সিলরদের এক প্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যাঁরা নিজের ওয়ার্ডে লিড দিতে পারবেন না তাঁরা পরের বার টিকিট পাবেন না। পুরমন্ত্রীর সে কথাই দলের বজ্রকঠিন অবস্থান হলে তৃণমূলে যে হাহাকার পড়ে যাবে সংশয় নেই। কারণ, সত্তর থেকে আশি শতাংশ কাউন্সিলর টিকিটই পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তব হল, এঁদের কাউকেই টিকিট না দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।

দ্বিতীয়ত, পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে এ দিন নজরুল মঞ্চে দিদি-র ডাকা বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত হবেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় লোকসভা ভোটে বিজেপি-র সঙ্গে আঁতাত করেছেন বলে অভিযোগ। তৃতীয়ত, বৈঠকে যাচ্ছেন এমন বহু কাউন্সিলর এরই মধ্যে বিজেপি তথা মুকুল রায়-কে বাগদান করে রেখেছেন যে, সুযোগ বুঝেই গেরুয়া জার্সি পরে নেবেন।

সব মিলিয়ে দিদি-র সামনে চ্যালেঞ্জটা সহজ নয়। তবে তৃণমূলের এক নেতার কথায়, নেতৃত্বে দিদি রয়েছেন সেটাই ভরসা। পারলে দিদিই পারবেন ঘোরাতে।

Comments are closed.