শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

#Breaking:আপাতত গ্রেফতার নয়, রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের সামনে হাজিরার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়ে আরও জানিয়ে দিল, সিবিআইয়ের তদন্তে সবরকম সাহায্য করতে হবে রাজীব কুমারকে। তবে তাঁকে এখনই গ্রেফতার করা বা তাঁর বিরুদ্ধে সে রকম কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

এ দিন সকালে শুনানি শুরু হতেই প্রথমে সিবিআইয়ের তরফে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই চিটফান্ডের তদন্ত ভার নিয়েছিল সিবিআই। তার আগে চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্তের জন্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম তথা এসআইটি গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। এসআইটি-র নেতৃত্বে ছিলেন রাজীব কুমার। তদন্তের সময়ে তাঁরা প্রচুর নথিপত্র, ইলেকট্রনিক তথ্য প্রমাণ, কল রেকর্ড ইত্যাদি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বারবার সেগুলি চাওয়া সত্ত্বেও তা তুলে দেওয়া হয়নি সিবিআইয়ের হাতে। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বার বার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও তিনি সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দেননি।

এর পরই রাজ্য সরকারের তরফে বলেন কংগ্রেস নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি বলেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে যে ভাবে সিবিআই হানা দিয়েছে তার আসল উদ্দেশ্য হল তাঁকে অপদস্থ, অপমান করা। তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআরও করা হয়নি।

অভিষেক আরও বলেন, সিবিআই যদি তদন্তের ব্যাপারে সত্যিই সিরিয়াস হতো, তা হলে রাজীব কুমারকে কিছুদিন পর পর  চিঠি পাঠাতো। একবার নোটিস পাঠাচ্ছে তো, পরের নোটিস পাঠাচ্ছে এক বছর পর। রবিবার সিক্রেট অপারেশন চালানোর মতো কোনও তাড়া আগে দেখা যায়নি। অথচ কলকাতার পুলিশ কমিশনার সিবিআইকে আগেই জানিয়েছিলেন যে, কোনও নিরপেক্ষ জায়গায় তিনি সিবিআইয়ের অফিসারদের সঙ্গে বসতে রাজি রয়েছেন। যেহেতু এসআইটি ভেঙে গিয়েছে, এবং ওই তদন্ত কমিটির বাকি সদস্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন, তাই একবার পুরনো টিমের সঙ্গে সিবিআই বসলেই সব কথা একবারে সেরে নেওয়া যেত।

অভিষেকের এই বক্তব্য শুনেই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, আমি বুঝে গিয়েছি। আমি যে রায় দেব কোনও পক্ষেরই আপত্তি থাকার কথা নয়। কলকাতার পুলিশ কমিশনার যখন সিবিআইয়ের সঙ্গে বসতে রাজি, তখন তিনি দ্রুত ওঁদের সামনে হাজিরা দিন। এ কথা শুনে রাজ্য সরকারের তরফে বলা হয়, সিবিআই যদি তাদের অফিসে বা দিল্লিতে রাজীব কুমারকে ডাকে তা হলে তাঁর পদ মর্যাদায় আঘাত লাগবে। তৃতীয় কোনও জায়গায় দেখা করলে ভাল। তা শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ঠিক কথা, মেঘালয়ের শিলংয়ে গিয়েই সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দিতে পারেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না, বা কোনও কঠোর ব্যবস্থা তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্ত করছে। তাই যে ভাবে সিবিআইকে কাজ করতে বাধা হয়েছে, তদন্তে অসহযোগিতা করা হয়েছে, সেটা আদালতকে অবমাননা করারই সামিল। এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি অবশ্য এ দিন বলেন, আদালতকে অবমাননার ব্যাপারে শুনানি নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই। ওই বিষয়ে ধীরে সুস্থে শোনা যাবে। তবে কলকাতা পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল, মুখ্যসচিবকে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁদের সে নোটিসের জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে অবশ্য এঁদের আদালতে হাজিরা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:

#Breaking: সুপ্রিম কোর্টের রায় নৈতিক জয়, ধর্ণামঞ্চ থেকে বললেন মমতা

#Breaking: সুপ্রিম কোর্টের রায় নৈতিক জয়, ধর্ণামঞ্চ থেকে বললেন মমতা

Shares

Comments are closed.