আটলান্টা পাড়ি দিল নদিয়ার লক্ষ্মী-গণেশ, ফাইবারের দুর্গার পরে পিতলের মূর্তি গড়ছেন বাদকুল্লার বিজয় পাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠা ঠা রোদে ক্লান্ত তিলোত্তমা। রোদে পুড়ে প্রতিমা বানানোর কাজও শুরু হয়ে গেছে কুমোরটুলি পাড়ায়। মাটির প্রতিমার সাবেকিয়ানার মাঝেই থিম পুজোর জন্য ভিন স্বাদের প্রতিমা গড়ার তোড়জোড় তুঙ্গে। শহর কলকাতার পাশাপাশি এমনই ব্যস্ততা দেখা গেল নদিয়ার বাদকুল্লার স্টেশন রোডের কাছাকাছি ছোট্ট ঘরটাতে। এখানে বসেই মাটির প্রতিমা গড়েন শিল্পী বিজয় পাল। তবে বছর দুয়েক ধরে তাঁর আরও একটা পরিচয় তৈরি হয়েছে। মৃৎশিল্পী বিজয় পালের গড়া ফাইবারের প্রতিমা এখন পাড়ি দেয় বিদেশে।

আগমনীর ঢের দেরি আছে। তার আগেই বায়না পেয়ে গিয়েছেন বিজয়বাবু। ফাইবারের দুর্গা প্রতিমা তো গড়বেনই, আপাতত পিতলের লক্ষ্মী, গণেশ, রাধা-কৃষ্ণ বানিয়ে ফেলেছেন নিপুণ দক্ষতায়। বাক্সবন্দি হয়ে ধাতুর এই মূর্তিগুলি আজই পাড়ি দেবে আমেরিকার আটলান্টা শহরে।

মাটির ডাইসের উপর পিতলের কাঠামো। কাজ শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারি থেকে, জানিয়েছেন বিজয়বাবু। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমে মাটির ঠাকুর তৈরি হয়। পরে তাতে ছাঁচ ফেলে পিতল ঢেলে বানানো হয় এই মূর্তি। ভালো করে বাক্সবন্দি করে এই ঠাকুর পৌঁছে দেওয়া হবে আমেরিকায়।’’  আড়াই ফুট উচ্চতা ও তিন ফুট চওড়া গণেশের মূর্তি অন্যতম সেরা আকর্ষণ। লক্ষী ও রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতার। সব মিনিয়ে প্রায় ৭৫ কিলোগ্রাম ওজন। তবে গণেশের মূর্তি কিছুটা ভারী। এই মূর্তির একারই ওজন ৪৫ প্রায় কিলোগ্রামের মতো।

মৃৎশিল্পীর কথায়, ফেসবুকে পরিচয় বাংলাদেশ নিবাসী প্রদীপ দেবনাথের সঙ্গে। তিনিই দিয়েছেন এই লক্ষ টাকার বরাত। প্রদীপবাবু মেরিকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়িতেই পুজো হবে নদিয়ার পিতলের ঠাকুরের। বিজয়বাবু জানিয়েছেন, মোট ছ’মাস লেগেছে মূর্তি গড়তে। বাক্সবন্দি হয়ে এই মূর্তি পৌঁছে যাবে খিদিরপুর ডকে। সেখান থেকে জাহাজে চেপে সোজা আটলান্টা। সময় লাগবে প্রায় ৪৫ দিন। কৃষ্ণনগরের পরে মূর্তির জৌলুসে নতুন নাম যোগ হলো নদিয়ার বাদকুল্লা।

গত দু’বছর ধরে বিজয় পালের হাতের জাদুতে মুগ্ধ আমেরিকার প্রবাসীরা। কখনও ফাইবারের সপরিবার দূর্গা, কখনও কালী মূর্তি বাদকুল্লা থেকে রওনা দেয় আমেরিকায়। এর আগে তাঁর তৈরি ৮ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা পাঠানো হয়েছিল বিদেশে। ওজন ছিল প্রায় আড়াই কুইন্টাল। ফাইবারের প্রতিমার হাতে ধরিয়েছিলেন পিতলের অস্ত্র, কাঠামোয় ছিল প্লাস্টিক রঙ। সেই মূর্তিও পৌঁছেছিল আটলান্টার প্রবাসী ভারতীয় ঘরে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More