মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

বাইসনের তাড়া খেয়ে দৌড় দিল কুনকি হাতি শ্রীমন্ত, খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না তাকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: বুনো বাইসন দেখে মাঝেমধ্যেই চঞ্চল হয়ে উঠছিল বন দফতরের পোষা হাতি শ্রীমন্ত। গন্ডার সুমারির জন্য শুক্রবার সকালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। বাইসন এক পা এগোলেই হাতি দু’পা পিছোয়। শেষে শিং উঁচিয়ে বাইসন খানিকটা তেড়ে যেতেই শ্রীমন্ত দিল লম্বা দৌড়। তার শেষ কোথায় হল ঠিক জানা নেই, কারণ হাতির আর কোনও খোঁজই পাননি বনকর্মীরা।

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের উত্তর জলদাপাড়া রেঞ্জে গন্ডার সুমারি শুরু হয়েছে আজ থেকে। বন দফতর সূত্রে খবর, প্রথমবার জলদাপাড়ায় গন্ডারের অবস্থান দেখে তার ডিজিটাল ম্যাপিং হবে। জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে তাদের সঠিক অবস্থান খেয়াল রাখা হবে। তার ফলে চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্যে লাগাম পরানো যাবে বলে মনে করছেন বনকর্মীরা। এই গণনার কাজেই এ দিন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বন দফতরের পোষা কয়েকটি কুনকি হাতিকে। তার মধ্যেই ছিল শ্রীমন্ত। বন কর্মীদের ধারণা, জঙ্গলের ভিতরেই কোথাও ঘাপটি মেরে রয়েছে সে। তবে হাতি পালানোতে এখনই বিশেষ আমল দিতে রাজি নয় বন দফতর। গণনার কাজেই তাদের নজর বেশি।

হিমালয়ান নেচার এন্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর অনিমেশ বোস বলেন, “ এবার নানান দিক থেকে গন্ডার গণনার কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণনা অনেক বেশি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে গন্ডার সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা নেবে।”

২০১৫ সালের পর গন্ডার সুমারি হচ্ছে জলদাপাড়ায়। শেষ গণনায় ২০৭টি গন্ডারের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। এ বার সেই সংখ্যা বাড়বে বলেই মনে করছেন বনকর্মীরা। তা ছাড়া গন্ডারের বিষ্ঠা থেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও তাদের সংখ্যা জানার চেষ্টা হবে। স্থানীয় বনকর্মীদের সঙ্গে সুমারিতে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রায় ৩৫৪ জন সদস্য। তাঁদের মোট ৫৩টি দলে ভাগ করে সুমারির কাজ শুরু করেছে বন দফতর। আজ থেকেই জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে কাজ। তার মাঝেই ঘটে গেছে এই বিপত্তি।  জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, “এ দিন কুনকি হাতিকে তাড়া করে নিয়ে যায় বাইসন। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি। গন্ডার সুমারির কাজেও কোনও প্রভাব পড়েনি।”

 

Shares

Comments are closed.