সন্তানকে খুন করে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছিল মা! বেলেঘাটা শিশু-চুরির তদন্তে নতুন মোড়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপহরণ হয়নি দু’মাসের শিশুকন্যা। বরং বাচ্চাটির মা-ই খুন করেছিলেন তাকে। তারপর দেহ ফেলে দিয়েছিলেন সেপটিক ট্যাঙ্কে। বেলেঘাটায় ফ্ল্যাটে ঢুকে শিশু চুরি-কাণ্ডে প্রকাশ্যে এল এমনই ভয়ঙ্কর তথ্য।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে সেলোটেপ দিয়ে বাচ্চাটির নাক মুখ পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। ফলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় বাচ্চাটির। রবিবার ভরদুপুরে ফ্ল্যাটে ঢুকে বাচ্চা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বেলেঘাটা এলাকায়। পুলিশের কাছে বাচ্চার মা অভিযোগ করে বলেন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফ্ল্যাটে হানা দিয়েছিল। তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বাচ্চা চুরি করে নিয়ে গেছে ওই দুষ্কৃতীই।

অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে বেলেঘাটা থানার পুলিশ। শিশুর মায়ের বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শুরু হয় ম্যারাথন জেরা। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে ভেঙে পড়েন ওই মহিলা। স্বীকার করেন তিনিই নিজের দু’মাসের কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলেছেন। রবিবার রাতেই উদ্ধার হয়েছে ওই শিশুকন্যার দেহ।

আরও পড়ুন: কলকাতায় ফ্ল্যাটে ঢুকে শিশু চুরি, বেধড়ক মারধর মাকে

কিন্তু কেন একজন মা এমন নৃশংস ভাবে নিজের সন্তানকে খুন করলেন সে বিষয়ে সঠিক ভাবে কিছু জানতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাদের অনুমান বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় মানসিক চাপ কিংবা পোস্ট প্রেগন্যান্সি মানসিক পরিবর্তনের কারণে ওই মহিলা এমনটা করেছেন কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অভিযুক্ত মহিলার দাবি ছিল রবিবার ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন না পরিচারিকা। ছাদে কাপড় মেলতে গিয়েছিলেন। সেই সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি কলিং বেল বাজায়। দরজা খুলতেই বলে পরিচারিকা ছাদের চাবি চাইছেন। এরপরেই ওই দুষ্কৃতী মহিলার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। তারপর পাশের ঘরে থেকে ঘুমন্ত শিশুকন্যাকে চুরি করে পালায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে এই অভিযোগের সবটাই ছিল ভুয়ো। কিন্তু নিজের সন্তানকে খুন করেও সারাদিন কীভাবে নির্বিকার ছিলেন ওই মা তাই নিয়েই ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

ইতিমধ্যেই শিশুকন্যার মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁর স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More