শনিবার, অক্টোবর ১৯

কলকাতা নয়, জেলা শহরেও বড়দের ট্রাফিক বোঝালো ছোটরা

  • 149
  •  
  •  
    149
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল আলো মানে থেমে যাও। সবুজে গড়াবে চাকা। হলুদ মানে ধীরে ধীরে সতর্ক ভাবে পারাপার করো। ট্রাফিক সিগন্যালের হাল হকিকত বোঝাতে এ বার আসরে নেমেছে কচিকাঁচারা।  সরকারি-বেসরকারি প্রচার-প্রসার, পুলিশের নির্দেশিকা সত্ত্বেও শহর, শহরতলি থেকে জেলা, সর্বত্রই ট্রাফিকের নিয়মকানুন না মানাটা একপ্রকার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। কখনও আমজনতার মাথায় হেলমেট নেই, আবার কখনও হেলমেট ছাড়াই বাইক-স্কুটার চালাচ্ছেন পুলিশ কর্তারা। গাড়ির বেপরোয়া গতিতে বাড়ছে পথ দুর্ঘটনাও। তাই আর খাতায় কলমে নয়, কচি গলায় ট্রাফিকের নিয়ম বিধি মানুষকে বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছে এই খুদেরা।

নামী-দামি স্কুল নয়, বরং পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়। এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাই বড়দের বোঝাচ্ছে কী ভাবে সাবধানে রাস্তা পারাপার করতে হয়। জেব্রা ক্রসিংয়ের গুরুত্ব কতটা। হেলমেট না পড়ে সওয়ারি হলে তার ফলাফল কতটা মারাত্মক হতে পারে।

জেলার এই স্কুলটি বহুদিন ধরেই নানা সামাজিক বিষয় ও সচেতনতা মূলক কাজ করে আসছে। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নানারকম কর্মসূচীতে যোগদান করে। সেই কারণে ২০১২ সালে ‘শিশুমিত্র বিদ্যালয় পুরস্কার’ পায় স্কুলটি। ২০১৭ সালে পায় ‘অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স’ পুরস্কার। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্কুলের এক শিক্ষিকার কথায়, ‘‘শুধু সিলেবাসের পাঠের মধ্যেই আমরা শিশুদের বেঁধে রাখিনি। নানা সামাজিক বিষয়ে এখন থেকেই তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়। সচেতনতার পাঠ পড়ানো হয়। এ বার ট্রাফিক আইন নিয়েও কাজ করছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। ’’

সামলে চালাও, প্রাণ বাঁচাও— পথ দুর্ঘটনায় রাশ টানতে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে রাজ্য জুড়ে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচির প্রচারে বার্তা এমনই। সে কথা প্রচার ও নজরদারির দায়িত্বে মূলত রয়েছে পুলিশই। কিন্তু বারবারই অভিযোগ উঠেছে, নিরাপদে গাড়ি চালানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির এই প্রয়াস সফল করার দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে, সেই পুলিশকর্মীদের এক অংশই নিয়ম ভাঙেন রাস্তায়। হেলমেট ছাড়াই চালান মোটরবাইক, স্কুটার । তা ছাড়া, পুলিশি নির্দেশিকাকে অমান্য করেন সাধারণ মানুষজনও।

পথে দুর্ঘটনা রুখতে সরকারি কর্মসূচি সফল করতে নানাবিধ নিয়মের অন্যতম মোটরবাইক বা স্কুটার আরোহীদের হেলমেট পরা। নিয়ম না মানলে জরিমানা। পেট্রোল পাম্পে হেলমেট ছাড়া তেল দিতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রশাসনিক তথ্য বলছে, তার পরেই হেলমেটের ব্যবহার বেড়েছে। নজরদারির জন্য মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবণতাও কমেছে। কিন্তু তার পরেও ফাঁক থাকছে। অধিকাংশ পথ দুর্ঘটনা এখনও পথচলার নিয়ম না মানার জন্যই ঘটছে।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, অন্য রাজ্য যেখানে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইভ বছরে সাত দিন পালন করে সেখানে পশ্চিমবঙ্গ ৩৬৫ দিনই পালন করে। গত দু’বছর ধরে টানা এই কর্মসূচি পালন করে দুর্ঘটনার হার অনেকটাই কমানো গিয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁদের এই কর্মসূচি দেখে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশাও এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন:

পুলিশকে সতর্ক করলো পুলিশই, কিন্তু কেন এই সতর্কতা?

Comments are closed.