বৃহস্পতিবার, জুন ২৭

ভয়েস রেকর্ডার-সহ সিসি ক্যামেরা ব্যক্তি স্বাধীনতা নষ্ট করবে, গাছ তলায় বসে প্রতিবাদ বর্ধমানের স্কুল শিক্ষিকাদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য জেলার বিভিন্ন স্কুলেই বসানো হচ্ছে ভয়েস রেকর্ডার-সহ ক্লোজড্‌ সার্কিট ক্যামেরা। স্কুলের স্টাফ রুম বা কমন রুমে এই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে অনেক স্কুলই। তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে বর্ধমান বর্ধমান শহরের মিউনিসিপ্যাল গার্লস স্কুলে। ভয়েস রেকর্ডার যুক্ত সিসি ক্যামেরা ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে, এই দাবি তুলে প্রতিবাদে নেমেছেন স্কুলের শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশ।

গত সোমবার থেকে স্কুলের ক্লাসরুমে দেখা যায়নি কোনও শিক্ষক-শিক্ষিকাকেই। গাছ তলায় বসেই আন্দোলন চালাচ্ছেন তাঁরা। পঠনপাঠনও হচ্ছে সেখানেই। বর্ধমান শহরের মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল, মেমারির বিদ্যাসাগর উচ্চ বিদ্যালয় (ইউনিট ১), কাটোয়ার কাশীরাম দাস বিদ্যায়তন-সহ জেলার একাধিক স্কুলে ভয়েস রেকর্ডার-সহ সিসি ক্যামেরা রয়েছে। মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের বিশাখা কমিটি ও পকসো আইন অনুয়ায়ী প্রতিটি স্কুলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ রয়েছে। সেই মতো সরকারি স্কুলে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। অনেক স্কুল নিজেদের খরচেও ক্যামেরা লাগাচ্ছে। পরিচালন সমিতির অনুমোদন নিয়ে প্রথম দফায় ২২টি সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছে মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুলও। যার বেশির ভাগটাই রয়েছে শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীদের বসার ঘরে। ঝামেলা শুরু হয়েছে সেখান থেকেই।

শিক্ষিকাদের দাবি, ক্লাসরুমের বদলে স্টাফরুমেই বেশির ভাগ সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। অভিযোগ, এর ফলে স্টাফ রুমে শিক্ষিকাদের বাক স্বাধীনতা নষ্ট হবে। সোমবার থেকে স্কুলের ২০ জন শিক্ষিকা গাছতলাতে বসেই কাজ করছেন।

স্কুল পরিদর্শকের (মাধ্যমিক) কাছে পাঠানো ২১ জনের সই-সম্বলিত চিঠিতে শিক্ষিকারা লিখেছেন, ‘আমরা মনে করি ভয়েস রেকর্ডার লাগিয়ে আমাদের বাক স্বাধীনতায় হাত দেওয়া হচ্ছে, যা সংবিধান বিরোধী। অথচ ছাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে মিড-ডে মিলের জায়গাতে সিসিটিভি নেই’।  আন্দোলনকারী এক শিক্ষিকার কথায়, “আমরা সিসি ক্যামেরার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু ভয়েস রেকর্ডার লাগানোর বিরুদ্ধে। এ ভাবে গোয়েন্দাগিরি করে পড়ুয়াদের কোনও লাভ হচ্ছে কি?”  শিক্ষিকা রিনা মুর্মুর দাবি, “আমরা টিফিন বা ফাঁকা সময়ে বাড়িতে ফোনে কথা বলি। সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথাও বলি। সে সব শোনাও কি দরকার?” অনুপ দত্ত নামে এক শিক্ষাকর্মীর দাবি, “ভয়েস রেকর্ডার খোলা না হলে আমরা এখান থেকেই স্কুলের যাবতীয় কাজ করব।’’

আন্দোলনকারীদের এই অভিযোগ উড়িয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবনী মল্লিকের অনুমোদন নিয়েই এই কাজ করা হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা বলেছেন,  “নিয়ম মেনেই ওই সিসি ক্যামেরা ও ভয়েস রেকর্ডার লাগানো হয়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শক ও জেলাশাসক বিষয়টি জানেন।’’ সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘যে শিক্ষিকারা এখন ভয়েস রেকর্ডার নিয়ে আপত্তি তুলছেন, পরে সিসি ক্যামেরা নিয়েও আপত্তি তুলবেন। ওঁরা বোধহয় জানেন না, সিসি ক্যামেরা ও ভয়েস রেকর্ডার পরস্পরের পরিপূরক।’’

জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শ্রীধর প্রামাণিক বলেছেন, “সরকারি স্কুলগুলিতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। কোথাও আপত্তি হয়নি। মিউনিসিপ্যাল গার্লস স্কুল এর বিরোধিতা করছে। এই নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলা হবে।’’

Comments are closed.