সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

‘অ্যাদ্দিন কোথায় ছিলেন?’ কালিয়াচকে প্রশ্নের মুখে ডালুবাবু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রচারে বেরিয়ে ফের একবার বিক্ষোভের মুখে দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরী বা ডালুবাবু। চলতি সপ্তাহে ইংলিশ বাজার ব্লকের খোয়ারমোড় এলাকায় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় ডালুবাবুকে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে কালিয়াচক থানার জালালপুর গ্রামে ফের একবার জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রচার বন্ধ করেই ফিরে আসতে হয় তাঁকে।

প্রচারে বেরোতে এ দিন কিছুটা দেরিই হয়েছিল ডালুবাবুর। কালিয়াচকের জালালপুর, ফতেখানি, দুয়ানিগ্রাম, সেলিমপুর-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রচার কর্মসূচী ছিল তাঁর। টোটোয় চেপে দুপুর বেলা রওনা দেন তিনি। জালালপুর গ্রামে ঢুকতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। তাঁর টোটো ঘিরে ধরে উত্তেজিত জনতা। ভিড়ের মধ্যে থেকে একের পর উড়ে আসে প্রশ্ন। গ্রামবাসীদের দাবি, ‘‘গনিখানের নাম ভাঙিয়ে আর কতদিন চলবে? গত লোকসভা ভোটের পর থেকে আপনাকে আর এলাকায় দেখা যায়নি।’’ প্রায় ৪০ মিনিট গ্রামেই আটকে থাকে ডালুবাবুর টোটো। গ্রামবাসীদের শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। বিফল হয়ে শেষে টোটো সমেত ফেরত যান তিনি।

যদিও গ্রামবাসীদের ক্ষোভকে তৃণমূলের চক্রান্ত বলেই দাবি করেছেন দক্ষিণ মালদার এই কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর কথায়, ‘‘এ সবই হচ্ছে তৃণমূলের চক্রান্ত।  যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা তৃণমূলের পোষা গোলাম।  এর আগেও আমি জালালপুর গ্রামে এসেছি, তখন মানুষ আমাকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন।  এ দিন কিছু তৃণমূলীরা চক্রান্ত করে এই কাজ করেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরব।’’

পঞ্চায়েতের ভোটের পর থেকে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ডালুবাবুর। তিন বছর আগে বিধানসভা ভোটে মালদায় কোনও আসন জেতেনি তৃণমূল। অথচ গত বছর পঞ্চায়েত ভোটে সেই মালদহে সব ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিয়েছে তৃণমূলই। এরই পাশাপাশি মালদা জুড়ে বিজেপির নামে বেশ গুঞ্জন আছে। ইংলিশবাজারের মতো শহুরে এলাকা এবং বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে বিজেপির প্রভাব আগে থেকেই যথেষ্ট।

ঘটনা প্রসঙ্গে দক্ষিণ মালদার তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আসলে ডালুবাবুর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে।  উনি নির্বাচনী প্রচারে যেখানেই যাচ্ছেন গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।বি গত দিনে সাংসদ হওয়ার পর ডালুবাবুকে এলাকায় দেখতে পাননি সাধারণ মানুষ। সেই ক্ষোভ তো থাকবেই  গ্রামবাসীদের। এ দিনের বিক্ষোভের বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছেন তিনি।

বিক্ষোভকারী গ্রামবাসী নিজামুদ্দিন শেখ, আজিম শেখ, হাবিব সেই,  সেলিম শেখদের বক্তব্য, পাঁচ বছরের মধ্যে এলাকার সাংসদকে দেখা যায়নি। গ্রামে যে সব সমস্যা ছিল সেগুলো মিটিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাই গ্রামবাসীদের যে ক্ষোভ জমা হয়েছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে এ দিন। বিক্ষোভকারীদের কথায়, ‘‘আমরা গনিখান সাহেবকে চিনি। তাঁকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ওঁর নাম ভাঙিয়ে বার বার ভোট চাওয়া হবে এটা হতে পারে না। তাই আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি, প্রচারে বাধা দিয়েছি।’’

Comments are closed.