শনিবার, অক্টোবর ১৯

বাড়ি ঢুকলেই বেধড়ক মারে ছেলেরা, পথে পথেই ঘুরছেন বৃদ্ধ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: নিজের বাড়ি থেকেই এখন তিনি নির্বাসিত। চৌকাঠ পার হলেই কপালে জোটে মার। কটূ কথা বলতে ছাড়েন না বৌমারা। মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়টুকু হারিয়ে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ এখন ভবঘুরে।

শান্তিপুরের ফুলিয়া কলোনির বাসিন্দা খোকন চন্দ্র দাস স্ত্রীকে হারিয়েছেন বছর দুই আগে। বাড়িতে এখন তাঁর দুই ছেলে কৃষ্ণ ও বিষ্ণুও তাঁদের পরিবার। খোকন বাবু পেশায় তাঁত শিল্পী ছিলেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আর তাঁত বুনতে পারেন না। চিকিৎসার জন্যও মেলা খরচ। জানিয়েছেন, ছেলেরা চিকিৎসার খরচ দিতে রাজি নয়। জমানো টাকা থেকেই ওষুধ কিনতে হয়। তার উপর বাড়ি লিখে দেওয়ার জন্যও ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে তাঁকে।

বৃদ্ধের কথায়, “সকাল-সন্ধে মারে ছেলেরা। বাঁচতে রাস্তায় ঘুরে বেড়াই সারাদিন। ঘরে ফিরলে ফের মারধর করে। মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, কনুইতেও কালশিটের দাগ। বাড়ি লিখে না দিলে মেরে ফেলবে ওরা।”

প্রতিবেশীদের সাহায্যে ঘটনার কথা খোকনবাবু প্রথম জানান বিডিওকে। তারপর শান্তিপুর থানা ও রানাঘাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু, কোনও ক্ষেত্রেই লাভ হয়নি বলে অভিযোগ বৃদ্ধের। জানিয়েছেন, থানায় অভিযোগ জানানোর পর ছেলেরা আরও বেশি হুমকি দিচ্ছে। এমনকী তারা এও জানিয়েছে যে শান্তিপুর ও ফুলিয়া ফাঁড়িতে টাকা দিয়ে পুলিশের মুখ বন্ধ করা আছে। অতএব প্রশাসনের তরফে সাহায্যের কোনও আশা নেই।

“আমি বাড়িতে ঢুকতে ভয় পাচ্ছি। আমার শরীর খারাপ, ওষুধ কেনার পয়সা নেই। তার উপর নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি,” সংবাদ মাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন বৃদ্ধ।  প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় আইন এখন যথেষ্ট কড়া। ষাট বছর এবং তার চেয়ে বেশি বয়সের বাবা-মায়ের উপরে অত্যাচার অথবা তাঁদের যত্নের ব্যাপারে কোনও অবহেলা করলে আদালতের রায়ে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সন্তানেরা দেখভাল না করলে প্রবীণেরা যাতে নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে খসড়া আইনে। আইনের কড়াকড়ি সত্ত্বেও বৃদ্ধ বাবা মায়ের উপর নির্যাতনের মাত্রাটা যে বিন্দুমাত্র লঘু হয়নি এবং প্রশাসনও যে এই ব্যাপারে উদাসীন ফের একবার তার প্রমাণ মিলল।

Comments are closed.