বর্ষায় ভাসছে উত্তর থেকে দক্ষিণ! সপ্তাহ জুড়ে এমনই চলার পূর্বাভাস, পুজোয় কী হবে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার ছিল। বেলা বাড়তেই ঝেঁপে এল বৃষ্টি। পূর্বাভাস অবশ্য ছিল গত কাল বিকেল থেকেই। কিন্তু সে পূর্বাভাস মিলিয়ে যে আজ এমন করে ভেসে যাবে শহর, অনেকেই ভাবতে পারেননি। যাঁরা ছাতা ছাড়াই কর্মক্ষেত্রের পথে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, প্রবল ভুগলেন তাঁরা। তবে যাঁদের ছাতা ছিল, তাঁদেরও মাথাটুকু ছাড়া কিছুই বাঁচেনি।

    তবে এত বৃষ্টিতে তাপমাত্রা খানিক নামলেও, আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি যে কমেছে, তা বলা যায় না। শুধু বৃষ্টিতে নয়, সেই সঙ্গে ঘামেও ভিজে নাকাল হচ্ছেন শহরবাসী। এ দিন বেলা ১২টা পর্যন্ত শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ।

    শহর কলকাতা শুধু নয়, দক্ষিণবঙ্গের সংলগ্ন এলাকাও এ রকমই বৃষ্টি দেখেছে বুধবার সকালে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, গোটা সপ্তাহ জুড়েই চলবে মেঘ-বৃষ্টির পালা। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টিতে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গ। সপ্তাহান্তে থামতে পারে বৃষ্টি। রবিবার যদিও ফের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ২৪ পরগণার বিভিন্ন অংশেও। হাল্কা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবেই। প্রভাব পড়বে উপকূলেও। সেখনকার জেলাগুলোতে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়াও। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তুলনায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উপকূলের মৎস্যজীবীদেরও সাবধান করা হয়েছে।

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের উপরে নিম্নচাপ রয়েছে। মৌসুমী অক্ষরেখা নিম্নচাপ অঞ্চল থেকে জামশেদপুর, দীঘা হয়ে উত্তর পুর্ব বঙ্গোপসাগরে এসেছে। আর একটা ঘূর্ণাবর্ত রয়েছো পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গে জলীয় বাষ্প ঢুকছে, মেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা কলকাতা-সহ দক্ষিণ বঙ্গে বজ্র বিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে। বেশি বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুরে।

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টা উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

    এ দিকে পুজোর আর এক মাসও বাকি নেই। গোটা বর্ষাকাল শুকনো কাটিয়ে, পুজোর আগেই যেন বেশি খামখেয়ালি হয়ে উঠেছে মৌসুমি বায়ু। যদিও গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাধারণত সেপ্টেম্বরের প্রথম অর্ধেক মাসেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে বঙ্গে, দ্বিতীয় ভাগ থেকে কমতে থাকে বৃষ্টির পরিমাণ। আর অক্টোবরের শুরুর দিকে বিদায় নেয় বর্ষা।

    তবে এই হিসেব এই বার গুলিয়ে যেতে পারে। কারণ এই বার বঙ্গে বর্ষা এসেছেই অনেক দেরিতে। প্রথম দিকে সে ভাবে বৃষ্টিও হয়নি। তাই সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ভাগেই মৌসুমি বায়ু বর্ষার ঘাটতি পূরণ করবে বলে অনুমান আবহয়াওয়া দফতরের। ফলে এ বার পুজোয় ভাসতে পারে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ, এমনটাই আশঙ্কা আবহবিদদের।

    এ দিকে পুজোর মাত্র সপ্তাহ তিনেক আগে এমন ভারী বৃষ্টিতে মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে ফুটপাথের ছোট হকার যাঁরা, প্রমাদ গুনছেন ক্ষতির। বড় বড় পাইকারী বাজারও জমছে না ভাল করে। সপ্তাহান্তেও যদি বৃষ্টি এমনই চলে, তা হলে সমস্যায় পড়বেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More