বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

কতটা ঝুঁকির বাঘেদের রাস্তা পারাপার, বুঝিয়ে দিচ্ছে একটি ভিডিয়ো

দ্য ওয়াল ব্যুরো : একের পর এক জনপদ গড়ে উঠছে।  বিশাল বিশাল রাস্তা, হুশ করে গাড়ি চলে যাচ্ছে এ শহর থেকে সে শহরে।  কিন্তু এই রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে মাইলের পর মাইল জঙ্গল সাফ হচ্ছে, সে খবর আমরা খুব একটা রাখতে ভালোবাসি না।  বৃহস্পতিবার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসায় বন্যপ্রাণীরা কতটা বিপন্ন তা আবারও সামনে এল। মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশের মাঝে অবস্থিত পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভ রয়েছে।  বাঘ এমনিই এদেশে কমে আসছে, সে খবর বারবার হয়েওছে।  আর এই টাইগার রিজার্ভের কাছেই তৈরি হয়েছে চার লেনের এনএইচ সেভেন।  যা মধ্যপ্রদেশের সিওনি থেকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের সংযোগ স্থাপন করছে।  ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে এই রাস্তা পেরোতে গিয়েই নাগপুরের চরবাহুলি ক্রসিংয়ের কাছে, লোহার তৈরি ক্রাশ ডিভাইডার  টপকে যেতে হচ্ছে বাঘটিকে।  ভিডিয়োটি দেখে অনেকেই প্রতিবাদ করছেন, এভাবে হাইওয়েতে ডিভাইডার লাগানো হয়েছে চার লেনের রাস্তা তৈরির জন্য, যা বাঘেদের যাতায়াতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।  এক্ষেত্রে বাঘগুলো হাইওয়ের গাড়িতে দুর্ঘটনার কবলে পড়বে এবং বেঘোরে প্রাণ হারাবে।  বাঘেরা এই ডিভাইডার পেরোতে গেলে যে ঝাঁপ দিচ্ছে, তাতে ওদের গতি নষ্ট হচ্ছে। চলন্ত গাড়ির মুখে যে কোনও সময় পড়তে পারে ওরা। ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাব এখানে ফুটে উঠেছে বলেও কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

কেউ বলছেন, “এবার থেকে বন্যপ্রাণীরা আমাদের থেকে ভাড়া নিক, আমরা তাঁদের বাসস্থানে ভাগ বসাচ্ছি। ” আবার কেউ দাবী করছেন “হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ কেন সতর্ক নয়? বাঘেরা সতর্ক হবে কেন! এটা ওদের বাসভূমি, বাকিরা সতর্ক হোন। ” তিব্বতের উদাহরণ দিয়ে একজন বলছেন, “জঙ্গলের মধ্যে ওখানে ব্রিজ তৈরি করা হয় বন্যপশুদের কথা ভেবে, আমরাও তো করতে পারি তেমন, তাহলে সমস্যা মিটতে পারে।” দুঃখ প্রকাশ করে একজন লিখেছেন, “এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, আমরা এমনভাবে নিজেদের কথা ভাবছি, তাতে ওরা ওদের থাকার জায়গাটুকুও হারিয়ে ফেলছে। ”

দেখুন ভিডিয়ো

২০০৮ সালে প্রথম এই এনএইচ সেভেন বা ৭ নং জাতীয় সড়কের প্রস্তাব আনা হয়েছিল, যেটা মধ্যপ্রদেশের সিওনি থেকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে সংযোগকারী হবে।  তখনই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সুপ্রিমকোর্টকে জানিয়ে দিয়োছিল ওই এলাকায় একটি ৯.৩ কিলোমিটারের একটি ফ্লাইওভার তৈরি করা হবে সেখানে, যাতে ওই পেঞ্চের বাঘেদের জীবনে এর কোনও প্রভাব না পড়ে।  ওরা ওদের মতো শান্তিতেই থাকবে।

দু-তিন দিন আগেই মহারাষ্ট্রে তিনটি বাঘের মারা যাওয়ার খবরে পশুপ্রেমীরা গর্জে উঠেছিলেন, যেখানে বিষক্রিয়ায় মারা গেছিল একটি বাঘিনী ও তার এক বছরের দুটি ছানা।  মহারাষ্ট্রের ব্রহ্মপুরি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছিল।  সোমবার চন্দ্রপুর জেলার চিমুর বনবিভাগের মেতেপুর গ্রামে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।  ওই দেহগুলোর কাছেই একটি হরিণের দেহও উদ্ধার হয়েছিল, যার দুটো পা ভাঙা ছিল।

বেশ ক’দিন আগেই কেরল ও কর্ণাটকের বর্ডারের কাছে দেখা গেছিল, জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে বাইকে করে যাচ্ছিলেন দু জন।  তাঁদের ধাওযা করেছিল একটি বাঘ।  কারণ ওদের ঘর বাড়ির মধ্যে দিয়ে আমরা যাতাযাত করছি।  ওরা বুঝতে পারে না কী করবে, আতঙ্কে, উৎকন্ঠায় আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

মোটরসাইকেলে চেপে দুই ব্যক্তি বন্দিপুর জঙ্গলের কাছে মুথাঙ্গা দিয়ে যাচ্ছিল।  বন্দিপুর জঙ্গল কর্ণাটককে তামিলনাড়ু ও কেরলার সাথে যু্ক্ত করে।  এই রাস্তা নগরহোল জাতীয় উদ্যানের খুব কাছাকাছি।  আর এই জাতীয় উদ্যানই ১১০ টি বাঘের ঘর বাড়ি।  খুব স্বাভাবিকভাবেই নিজের জায়গা বাঁচাতে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

Comments are closed.