পরিবেশ বিধি মানতে ব্যর্থ বিশ্বভারতীর থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৌষমেলার জন্য বেঁধে দেওয়া বিধিনিষেধ না মানার অভিযোগ তুলে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি (শো-কজ নোটিস) পাঠাল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। পরিবেশ আদালতের বেঁধে দেওয়া বিধিনিষেধ না মানতে পারার জন্য বিশ্বভারতীকে দশ লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য করেছে পর্ষদ।

কোন কোন ক্ষেত্রে বিধি ভঙ্গ করা হয়েছে তার তালিকাও দেওয়া হয়েছে পর্ষদের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে। পর্ষদের আধিকারিকরা ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে সরেজমিনে দেখেছেন যে মেলার মধ্যে বহু খাবারের দোকান রয়েছে যেগুলিতে জ্বালানি হিসাবে কয়লা ব্যবহর করা হয়েছে।

মেলা প্রাঙ্গণে যথেষ্ট সংখ্যায় শৌচাগার (বায়ো-টয়লেট) ছিল না এবং যেগুলি ছিল সেগুলি ঠিক ভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। মেলায় পরিচ্ছন্নতার যথেষ্ট অভাব ছিল। মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট শৌচালয়গুলির শোচনীয় অবস্থা ছিল। শৌচালয়গুলিতে জলের ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, বাইরে থেকে জল বয়ে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজন মেটানোর মতো কোনও পাত্রও ছিল না শৌচালয়গুলিতে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অভিযোগ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (ফায়ার একস্টিংগুইশার) ছিল না দোকানগুলিতে। অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর দিল্লির পরিবেশ আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৮ ডিসেম্বর আলোচনার মাধ্যমে যে পরিকল্পনা হয়েছিল তাও মানতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বভারতী – অভিযোগ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের।

এইসব কথা উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণ হিসাবে কেন বিশ্বভারতী দশ লক্ষ টাকা দেবে না।

পৌষমেলায় দূষণ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ দিনের। দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মামলা গড়ায় দিল্লির পরিবেশ আদালত পর্যন্ত। একসময় মনে করা হচ্ছিল যে এবার হয়তো পৌষমেলাই হবে না।

স্টল বুকিং নিয়ে যে অভিযোগ ছিল তা রুখতে অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সিকিউরিটি মানি চাওয়া নিয়েও বিতর্ক বাধে।

১৮৯৪ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন জোড়াসাঁকোয় শয্যাশায়ী, তখন তাঁরই নির্দেশে তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতিতে ৭ পৌষ উপাসনা গৃহের উদ্বোধন করেন। সেই উপলক্ষে কাচঘর সংলগ্ন মাঠে বসে এক দিনের মেলা। সেই শুরু পৌষমেলা। তখন ইলেকট্রিক আলো ছিল না। দিনের বেলাতেই সারা হত সমস্ত অনুষ্ঠান।

১৮৯৪ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত এই পৌষমেলা হত একদিনের। ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হওয়ার পর পর, ১৯৬১ সাল অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষ পর্যন্ত মেলা হত দু’দিনের। কলেবর বৃদ্ধি হওয়ায় সেই সময় থেকে মেলা পূর্বপল্লির মাঠে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৬১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মূল মেলা ছিল তিন দিনের। পরে ভাঙা মেলা থাকত আরও বেশ কয়েক দিন। ২০১৬ সালে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে তিনদিনের মেলা শেষ হতেই মাঠ খালি করে দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এ বার সেই মেলায় চারদিনের করা হয়। যদিও তার পরেও দোকান বন্ধ করতে চাননি ব্যবসায়ীরা। এনিয়ে থানা-পুলিশ পর্যন্ত হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More