‘রবীন্দ্রনাথ বহিরাগত!’, ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য

'রবীন্দ্রনাথ বহিরাগত' মন্তব্য নিয়ে শুক্রবার ক্ষমা চেয়েছেন বিদ্যুৎবাবু। তিনি যদিও বলেছেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। তাঁর কথায়, "আমি যে কথা বলতে চেয়েছিলাম তার অন্য মানে করা হয়েছে। তবু আমার বক্তব্য যদি কাউকে আঘাত করে থাকে তাহলে আমি ক্ষমা চাইছি।"

২৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর নানা মন্তব্য নিয়ে অতীতেও বহুবার জলঘোলা হয়েছে। সমালোচনার ঝড় বয়ে গেলেও তিনি বিশেষ গায়ে মাখেননি। কিন্ত এবার সেই তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ক্ষমা চাইলেন।

‘রবীন্দ্রনাথ বহিরাগত’ মন্তব্য নিয়ে শুক্রবার ক্ষমা চেয়েছেন বিদ্যুৎবাবু। তিনি যদিও বলেছেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি যে কথা বলতে চেয়েছিলাম তার অন্য মানে করা হয়েছে। তবু আমার বক্তব্য যদি কাউকে আঘাত করে থাকে তাহলে আমি ক্ষমা চাইছি।”

শান্তিনিকেতনে পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা এবং তা ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে গত মাসে তোলপাড় কাণ্ড বেঁধে গিয়েছিল বিশ্বভারতীতে। আবাসিক, ছাত্রছাত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, তৃণমূল, বিজেপি সবাই কার্যত ময়দানে নেমে পড়েন। বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতিতে তোলপাড় পড়ে যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাঁচিল তোলার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “ওখানে বহিরাগতদের জড়ো করে পাঁচিল তোলা হচ্ছে। এই পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথের মুক্ত শিক্ষার ভাবনা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে।”

পাল্টা উপাচার্য বলেন, “রবীন্দ্রনাথও তো শান্তিনিকেতনে বহিরাগতই ছিলেন!” এর পরেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে।

ক্ষমা চেয়ে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “আপনারা যদি আমার কথা ভাল করে.বোঝার চেষ্টা করেন তাহলে আশা করি বুঝবেন আমি কী বলতে চেয়েছি।” তাঁর কথায়, “বহু বছর আগে রবীন্দ্রনাথ এই অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে। তারপর এখানে বিশ্রামের জন্য দাঁড়ান এবং নাম দেন শান্তিনিকেতন। পরে তিনি এখানে আসেন।” প্রসঙ্গত ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৫১ সালে তাকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা দেওয়া হয়।

বিশ্বভারতীর পাঁচিল নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরি লোকলস্কর জড়ো করে নির্মীয়মাণ পাঁচিলে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়। পাঁচিল তোলার কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলে, পৌষ মেলার মাঠে গাঁজা-মদের ঠেক চলে। অবাধে চলে যৌনাচার। রাত্রিবেলা দেহ ব্যবসা চলে পৌষমেলার মাঠে।

সব মিলিয়ে বিশ্বভারতী নিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এই প্রথম নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন উপাচার্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More