তৃণমূল নাক গলাচ্ছে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় আধাসেনা দিন! স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি বিশ্বভারতীর উপাচার্যের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরক্ষায় খামতি থেকে যাচ্ছে। কারণ বর্তমানের নিরাপত্তারক্ষীরা বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের অনুগত। সেই জন্য, ক্যাম্পাসজুড়ে সিআইএসএফ নিয়োগের দাবিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে চিঠি লিখলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, সেই চিঠির একটি প্রতিলিপি বিশ্বভারতীর আচার্যের কাছে অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছে।

    ইউজিসি সূত্রের খবর, উপাচার্যের ওই চিঠি পাওয়ার পরে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তার জন্য সিআইএসএফ নিয়োগ করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে কেন্দ্র।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য লিখেছেন, “যেসব বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে কাজ করেন, তাঁরা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বশংবদ। ফলে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা আধিকারিকের নির্দেশ মান্য করেন না। এর ফলে তাঁদের কাজে কোনও গাফিলতি থাকলেও কোনও পদক্ষেপ করা যায় না। কারণ তাঁদের কোনও শাস্তি দেওয়া হলে বা তাঁদের সরানো হবেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের হয়ে কথা বলেন। তাই নিরাপত্তার বিষয়ে আপস করে চলতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। তাই এই পরিস্থিতে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সিআইএসএফ বাহিনী নিয়োগ করা হোক।”

    তবে এই নিয়ে বড় মাত্রায় ক্ষোভ ঘনিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া-মহলে। তাঁরা জানিয়েছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের ফি একলাফে অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গলা তোলেন পড়ুয়া ও অশিক্ষক কর্মচারীরা। এ সব প্রতিবাদ যাতে আর মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্যই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আধাসেনা নিয়োগ করে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাধীন কার্যকলাপে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।

    ফি-বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র-বিক্ষোভের জল গড়ায় অনেক দূর। শেষমেশ ঘেরাও করে রাখা হয় উপাচার্যকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য অধ্যাপকদেরও সেই সময়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীরা নিজেদের কর্তব্য পালন করেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি কর্তৃপক্ষের আরও দাবি, আন্দোলন প্রতিহত করার বদলে আন্দোলনকারীদের ইন্ধন জুগিয়েছেন ওই কর্মীরা।

    মূলত এই ঘটনার ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে গত মাসে মানবসম্পদ উন্নয় মন্ত্রকে চিঠি লেখেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

    কিন্তু শিক্ষা প্রাঙ্গণে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করার বিষয়টি যথেষ্ট সংবেদনশীল। অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের মতপার্থক্যের অধিকার ও বিক্ষোভ চাপা দিতেই এই পদক্ষেপ করতে চলেছেন কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়। পড়ুয়াদের তরফে অভিযোগ, ক্যাম্পাসে অনেক দিন ধরেই অনেক ছোট দোকান তুলে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ছাত্রছাত্রীদের বসে কথা বলার জায়গা নেই কার্যত। সন্ধে আটটার পরে পাঠভবন ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিয়েছেন। মেলার মাঠ থেকে রাত আটটার পর তুলে দেওয়ার পক্রিয়া চালু করেছেন। এই অবস্থায় পড়ুয়াদের নিজেদের জন্য কোনও পরিসর থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এক পড়ুয়ার কথায়, “রবিঠাকুর মুক্তচিন্তার চর্চা করার কথা বলেছিলেন। উদার মানসিকতা তৈরি করার জন্য খোলা ক্যাম্পাস গড়েছিলেন। অচলায়তন ভাঙার কথা লিখেছিলেন তিনি কিন্তু এখন যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই অচলায়তনেই পরিণত করা হচ্ছে! আমাদের ক্যাম্পাসজুড়ে প্রহরা দেবে আধাসেনা, এ আমার কিছুতেই মেনে নিতে পারব না। ক্যাম্পাসটা তো যতটা কর্তৃপক্ষের, ততটাই আমাদেরও!”

    বর্তমানে এ দেশের কোনও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়েই আধাসামরিক বাহিনী বা পুলিশ মোতায়েন নেই স্থায়ী ভাবে। তবে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এই আবেদন একেবারে নজিরবিহীন নয়। এর আগে, ২০১৭ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একই অনুরোধ জানিয়েছিলেন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রককে। বিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সুরক্ষার কথা বলে সেই আবেদন করা হয়। কিন্তু সেটি এখনও বিবেচনাধীন স্তরেই রয়েছে।

    বিশ্বভারতীর ক্ষেত্রে কী হয়, সেটাই এখন দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More