বুধবার, জুন ১৯

অস্বাভাবিক বেড়েছে ভর্তির ফি! আন্দোলনে বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা, আলোচনার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শান্তিনিকেতন: প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে ঘেরাও মুক্ত হলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য-সহ অধ্যক্ষ, আধিকারিকেরা। ভর্তির ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা খরচ কমানোর শর্তে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন পড়ুয়ারা। সার্ক অন্তর্ভুক্ত ও বিদেশি পড়ুয়াদের ভর্তির ফি-সংক্রান্ত বিষয়েও ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন কর্তৃপক্ষ। তবে কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবি না মানলে, ফের বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেয় পড়ুয়ারা।

অভিযোগ, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এ বছর থেকে সাধারণ পড়ুয়াদের ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সার্ক অন্তর্ভুক্ত দেশের পড়ুয়াদের ফি পাঁচ গুণ ও বিদেশি পড়ুয়াদের ফি দশ গুণ বৃদ্ধি করেছেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এর পরেই সেই বর্ধিত ফি কমাতে হবে, এই দাবিতে আন্দোলনে নামেন পড়ুয়ারা।

বেশ কয়েক দিন লাগাতার আন্দোলনের পরে এ দিন বিশ্বভারতীর লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী-সহ বিভিন্ন বিভাগের অধ্যক্ষরা। বিকেল ৩টে নাগাদ এই আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু দু’পক্ষই নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় লিপিকা প্রেক্ষাগৃহ গেট বন্ধ করে শুরু হয় আন্দোলন। পড়ুয়াদের দাবি, যত ক্ষণ না কর্তৃপক্ষ বর্ধিত ফি কমাবেন, তত ক্ষণ এই আন্দোলন চলবে।

এমনকী, সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্য-সহ আধিকারিকদের আটকে রাখা হবে বলেও জানান পড়ুয়ারা। শেষমেশ প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ঘেরাও মুক্ত হন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী-সহ বিভিন্ন বিভাগের অধ্যক্ষ, আধিকারিকেরা।

কর্তৃপক্ষের তরফে পড়ুয়াদের আশ্বাস দেওয়া হয়, ভর্তির ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। এছাড়া, সার্ক-ভুক্ত দেশগুলি ও বিদেশি পড়ুয়াদের ভর্তির বর্ধিত ফি প্রসঙ্গেও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

পড়ুয়ারা জানান, আন্দোলন আংশিক সাফল্য হয়েছে। দাবি না মানলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার কথাও জানান তাঁরা।

উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, “ছাত্রছাত্রীরা আমাদের সন্তানের মত। তাদের দাবি মতো আমরা সব দিক বিবেচনা করেছি।”

Comments are closed.