মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের সভায় লোক কই, জয়হিন্দ বাহিনীর জেলা সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন শাসকদলের ভিতরেই

পুরুলিয়ার বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এদিন তৃণমূলের জয়হিন্দ বাহিনীর জেলা সম্মেলনে যা লোক হয়েছিল, তাদের বুথ কমিটির সভায় এর থেকে বেশি লোক হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের পর আরএসএসের পাল্টা সংগঠন হিসেবে ব্লকে ব্লকে জয়হিন্দ বাহিনী আর বঙ্গ জননী বাহিনী গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়হিন্দের দায়িত্ব দিয়েছিলেন দুই ভাই কার্তিক ও গণেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর বঙ্গজননীর দায়িত্ব পড়েছিল বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কাঁধে। এতদিন এসব বাহিনীর নাম শোনা গেলেও শনিবার দেখা যায় জয়হিন্দের পুরুলিয়া জেলা সম্মেলন হচ্ছে। সেখানে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক। কিন্তু তাঁর সভায় লোক কই? ফাঁকা ফাঁকা মাঠেই সভা করতে হল মুখ্যমন্ত্রীর ভাইকে।

    পুরুলিয়ার বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এদিন তৃণমূলের জয়হিন্দ বাহিনীর জেলা সম্মেলনে যা লোক হয়েছিল, তাদের বুথ কমিটির সভায় এর থেকে বেশি লোক হয়। কার্তিকবাবুর কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও তাঁর অনুগামীরা মাঠ ফাঁকা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

    দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদীর শপথ নেওয়ার দিন দিল্লি যাননি দিদি। সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে দিল্লিযাত্রা বাতিল করেছিলেন মমতা। ওই বিকেলে নৈহাটি গিয়েছিলেন তিনি। ‘ঘরছাড়া’ তৃণমূলকর্মীদের ধর্না মঞ্চে বলেছিলেন আরএসএস-এর পাল্টা হিসেবে ব্লকে ব্লকে জয়হিন্দ বাহিনী গড়ে তুলতে। তার দুদিন বাদেই দলের বৈঠকে জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি ও আহ্বায়ক করা হয় কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও গণেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে জয়হিন্দের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রাত্য বসু এবং ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইন্দ্রনীল সেনকে। কিন্তু এদিনের ছবিতে অস্বস্তিতে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও।

    কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতায় সংগঠনের কাজ দেখভাল করতেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে অভিষেকের খুব একটা বনিবনা নেই বলেই তৃণমূলের অন্দরে অনেকে বলেন। তার প্রমাণও মিলেছে বারবার। কখনও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিফলেট বিলি করেছেন, কখনও দলীয় সভায় বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিষেক অনুগামীদের সঙ্গে। দুই ভাইকে সামনের সারিতে নিয়ে এসে সেই ক্ষতয় নেত্রী প্রলেপ দিতে চেয়েছিলেন বলেই মনে করেছিলেন অনেকে। কিন্তু তা হল কই?

    লোকসভা ভোটে পুরুলিয়া জেলায় ধস নেমেছিল তৃণমূলের জনসমর্থনে। তারপর পশ্চিমাঞ্চলের সাংগঠনিক দায়িত্বও বদল করেছিল তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের সরিয়ে রাঢ় বাংলার জেলাগুলির দায়িত্ব দেওয়া হয় পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল নেত্রী এটা ভালই জানেন, আরএসএস-কে রুখতে না পারলে গণভিত্তির ধস ঠেকানো যাবে না। তাই সামনের কথা ভেবেই ওই বাহিনী গড়ার ডাক দিয়েছিলেন দিদি। কিন্তু তা কি আদৌ জমাট বাঁধল? এদিনের সভা দেখে প্রশ্ন শাসকদলের অনেক নেতারই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More