জঙ্গলের আইন! বাঘের নাম ধরে ডাকলেই ফাইন, ছবি-ভিডিও তুললে জেল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গলে সাবধান! বাঘের নাম ধরে ডাকাডাকি করলেই গ্রেফতার করবে পুলিশ। আর বাঘের সঙ্গে যেচে আলাপ করতে যাওয়া তো নৈব নৈব চ! হয় জেল নয়তো মোটা টাকা ফাইন। এমনই কড়া নির্দেশিকা জারি করল দেহরাদূনের করবেট টাইগার রিজার্ভ (CTR) ।

    দেশের অন্যতম বড় বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্র করবেট জাতীয় উদ্যানে এখন রয়্যাল বেঙ্গলের সংখ্যা ৩৪০টি। পূর্ণবয়স্ক বাঘ ও বাঘিনীর সংখ্যা প্রায় সমানুপাতিক। করবেট জাতীয় উদ্যানে সাফারি করতে ফি বছর ভিড় জমান বহু পর্যটক। সিটিআর-এর ডিরেক্টর রাহুল বলছেন, “বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করা পর্যটকদের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানারকম নামে বাঘদের ডাকাডাকি করে উত্যক্ত করা হয়। চিৎকার-চেঁচামেচি করে বাঘদের শান্তির ঠিকানায় বিঘ্ন ঘটান মানুষজন। এটা কোনও ভাবেই আর চলবে না।”

    বন বিভাগের আধিকারিকরা বলছেন, পর্যটকদের চেঁচামেচিতে বাঘদের মেজাজ বিগড়ে যায়। উত্তেজিত হয়ে পড়ে বন্যপ্রাণীরা। ভয়ও পায় অনেকে। সংরক্ষণ কেন্দ্রে বন্যপ্রাণীদের এইভাবে বিরক্ত করা আইনত অপরাধ। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের (১৯৭২) আওতায় ধারা ৯ ও ধারা ৫০ অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হতে পারে অপরাধীদের।

    করবেট টাইগার রিজার্ভের ডিরেক্টরের কথায়, বাঘের সংখ্যা কমছে গোটা বিশ্বেই। নতুন বাঘ-সুমারিতে ভারতে যে ক’টি বাঘ বেড়েছে সেটা গর্বের বিষয়। করবেট জাতীয় উদ্যান তাদের মধ্যে অন্যতম। এখন ৩৪০টি বাঘ টিকে রয়েছে এখানে। তাদের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এই সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিটি কর্মচারীর। অনেক সময় দেখা যায়, সাফারিতে গাইডরাই বাঘদের নাম ধরে ডাকাডাকি করে পর্যটকদের মনোরঞ্জন করেন। গাইডদের দেখাদেখি পর্যটকরাও একই ভাবে চেঁচামেচি করতে শুরু করেন। কোনও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কেন্দ্রে এর মানে হল সেই প্রাণীকে বেআইনিভাবে ট্র্যাক করা। বাঘের ছবি তুলেও ছড়িয়ে দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এটাও দণ্ডণীয় অপরাধ বলে জানিয়েছেন করবেট জাতীয় উদ্যানের ডিরেক্টর।

    ন্যাশনাল টাইগার কনজ়ারভেশন অথরিটি (এনটিসিএ) বা জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্রের গণনা বলছে, দেশে এখন বাঘের সংখ্যা ২,৬০৩ থেকে ৩,৩৪৬-র মধ্যে। সংখ্যাটা শুধু পূর্ণবয়স্কের হিসেবে নয়, বাঘ-বাঘিনী-শাবক মিলিয়েই। সম্প্রতি রাজস্থানের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানে বাঘদের মানুষখেকো হয়ে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। এনটিসিএ এবং সেখানকার বনবিভাগের কর্তারা জানিয়েছেন, বাঘদের অহেতুক বিরক্ত করত গ্রামবাসীরা। সে কাজেও নাম জড়িয়েছিল বনবিভাগের কয়েকজন কর্মচারীরও। মারধর, জখম করা এইসব চলত অহরহ। ফলে মানুষের প্রতি একটা আক্রোশ জন্মে গেছে বাঘদের। সেই সঙ্গে এলাকা দখলের লড়াই তো আছেই। করবেট জাতীয় উদ্যানে এমনটা যেন না হয় তার জন্য আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে জাতীয় উদ্যানের কর্তৃপক্ষকে।

    রাজ্যের বনমন্ত্রী হরক সিং বলেছেন, “অনেক বেশি কঠোর হতে হবে আমাদের। বাঘদের কোনওভাবে বিরক্ত করা, তাদের গতিবিধি ও অন্যান্য তথ্য পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়লে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। অনেক সময় দেখা যায় এইসব ছবি ও ভিডিও সাইবার অপরাধীদের হাতে গিয়ে পড়ে। ফলে চোরাপাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সরকারের তরফে।”

    আরও পড়ুন:

    রণথম্বোরের মানুষখেকো! গ্রামবাসীদের ত্রাস হয়ে উঠছে নরখাদকরা

    স্যার, খুন আমি করেছি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More