শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

দুরন্ত গতিতে ছুটে আসছে ট্রেন, ধাক্কা মারার আগের মুহূর্তেই গাড়ির চালককে বের করে আনলেন পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুর মুখ থেকে তরুণকে ছিনিয়ে আনলেন কর্তব্যরত পুলিশ। কয়েক মাইক্রো সেকেন্ড এদিক ওদিক হলেই ওই তরুণের মৃত্যু ছিল নিশ্চিত। তবে এ যাত্রায় তাঁকে বাঁচিয়ে দিলেন ওই পুলিশকর্মী। দুরন্ত গতির ট্রেন তরুণের গাড়িতে ধাক্কা মারার আগেই তাঁকে টেনে বের করে এনেছেন ওই আইনের রক্ষক। নিজেই বলছেন, “কী ভাবে পারলাম জানি না। শুধু জানতাম যাই হোক ওঁকে বাঁচাতে হবে।”

রোজের মতোই পেট্রোলিংয়ের ডিউটিতে বেরিয়েছিলেন ওয়াশিংটনের utah হাইওয়ে পুলিশের অফিসার রুবেল কোরিয়া। টহল দেওয়ার সময় আচমকাই লক্ষ্য করেন পাশেই রেল লাইনের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি গাড়ি। ব্যাপারটা কী তা বোঝার জন্য কয়েক পা এগোতেই ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় রুবেনের। দূর থেকে ভেসে আসা ট্রেনের হুইসল আর ক্ষীণ আলো দেখে তখন সিঁটিয়ে গিয়েছেন তিনি।

কোনওমতে খবর পাঠান কন্ট্রোল রুমে। তারপর রুবেন নিজেই ছুটতে থাকেন ওই গাড়ির দিকে। পিছন থেকে চিৎকার করে গাড়ির চালকের উদ্দেশে বলতে থাকেন, “বেরিয়ে আসুন। ট্রেন আসছে। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসুন।” তবে পুলিশকর্তার কোনও কথাই কানে যায়নি গাড়িতে থাকা ওই তরুণের কানে পুলিশকর্তার কোনও কোথায় পৌঁছয়নি। ছুটতে ছুটতে গাড়ির সামনে গিয়ে রুবেন দেখেন স্টিয়ারিংয়ে বসেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছেন চালক। পুলিশকর্মীর অনুমান, সম্ভবত আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন চালক। তাই জ্ঞান হারান।

তবে এই পরিস্থিতিতে মনোবল হারাননি ওই পুলিশকর্মী। গাড়ির দরজা খুলে মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে টেনে বের করে আনেন রুবেন। দু’জনেই গড়িয়ে যান রেললাইনের পাশের ঢালে। রুবেনের কথায়, “নীচে পড়ার সময়েই বুঝতে পারলাম ট্রেনটা এসে সজোরে ধাক্কা মারল ওই গাড়িতে। প্রায় ৩০ ফুট দূরে ছিটকে গিয়ে পড়ল গাড়িটা। শিউরে উঠেছিলাম আমি। একচুল এদিক ওদিক হলেই আমার সঙ্গে তরুণ এতক্ষণে ছিন্নভিন্ন লাশ হয়ে যেতেন।”

পুলিশকর্মী রুবেন কোরিয়া জানিয়েছেন, ট্রেনের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২৯ কিলোমিটার। অনেকটা দূরে থাকার সময়েই বোঝা যাচ্ছিল যে তীব্র গতিতে ছুটে আসছে ট্রেনটি। ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছিল আলো। এই অবস্থায় মনের জোরে রুবেন যে অসাধ্য সাধন করেছেন তাতে মুগ্ধ নেটিজেনরা। utah হাইওয়ে পেট্রলের তরফেই টুইটে শেয়ার করা হয়েছে গোটা ঘটনা ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই ভিডিও এখন ভাইরাল। রুবেনকে কুর্নিশ জানিয়েছে নেট দুনিয়া। লাইক-কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে ভিডিও শেয়ার হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই।

অনেকেই বলছেন, মিরাকল ঘটিয়েছেন পুলিশকর্মী রুবেন কোরিয়া। এমন আতঙ্কের মুহূর্তেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হননি। বরং তৎপরতার সঙ্গে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন ওই গাড়ির চালককে। সকলের শুভেচ্ছা পেয়ে অভিভূত রুবেনও। তিনি বলছেন, “ওঁকে বাঁচাতে পেরেছি, উনি আবার নিজের পরিবারের কাছে সুস্থ ভাবে ফিরে যেতে পারবেন, এটা ভেবেই আমি আনন্দিত।”

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

আগে তো আমাদের বাঙালি হতে হবে, তারপরই না ফিউশন: সনজীদা খাতুন

Comments are closed.