তিন তালাক মানতে চায়নি, পাঁচ বছরের মেয়ের সামনে বাইশের তরুণীকে জ্যান্ত পোড়াল শ্বশুরবাড়ির লোকজন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: তালাক! তালাক! তালাক!

    ফোনে ভেসে এসেছিল স্বামীর গলা। ৬ অগস্ট। এই তিন শব্দের পরেই ফোন কেটে গিয়েছিল। মানতে চাননি ২২ বছরের সায়েদা। গিয়েছিলেন পুলিশের কাছেও। তারই খেসারত দিতে হল দিন দশেক পরে। পাঁচ বছরের মেয়ের সামনেই সায়েদাকে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারল তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। গত শুক্রবার এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তী জেলার গাদরা গ্রামে।

    মা’কে চোখের সামনে জ্বলতে দেখেছে পাঁচ বছরের মেয়ে ফতিমা। পুলিশকে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বারে বারেই চমকে উঠছিল সে। কাঁদতেও যেন ভুলে গিয়েছিল শূন্য দুই চোখ। পুলিশ জানিয়েছে, শিশু কন্যার কথায়, ওই দিন সন্ধেয় তার বাবা নাফিস (২৬) নমাজ সেরে বাড়ি ফিরে আসে। প্রথমে তার মা সায়েদাকে বেধড়ক মারধর করে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। সায়েদা রাজি না হলে শুরু হয় চুলের মুঠি ধরে মার।

    ফতিমার কথায়, ‘‘আমার দাদু আজিজুল্লা, ঠাকুমা হাসিনা ও দুই পিসি গুড়িয়া এবং নাদিরা মা’কে চুল ধরে টেনে নিয়ে যায়। এরপর নাদিরা ও গুড়িয়া মায়ের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়। দাদু ও ঠাকুমা দেশলাই জ্বালিয়ে ছুড়ে দেয় মায়ের গায়ে। মা পুড়ে যায়।’’

    স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছেন সায়েদার বাবা রমজান খান। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, সায়েদার স্বামী নাফিস মুম্বইতে চাকরি করে। পণের জন্য মেয়ের উপর প্রায়ই চাপ দিত তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মারধরও করা হত। গত ৬ অগস্ট ফোনেই মেয়েকে তিন তালাক দেয় নাফিস। সায়েদা মানতে রাজি হয়নি। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। গত ১৫ অগস্ট নাফিস মুম্বই থেকে ফিরলে, পুলিশ দু’জনকেই থানায় ডেকে পাঠায়। নাফিসকে বলে স্ত্রীর সঙ্গে মানিয়ে থাকতে। সায়েদার বাবা অভিযোগ, থানা থেকে ফেরার পরই মেয়ের উপর অত্যাচার চরমে উঠেছিল। খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল তাকে।

    শ্রাবস্তীর এসপি আশিষ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, সায়েদার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে নাফিস ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে খুন, পণের জন্য নির্যাতন, তিন তালাক-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    গত ৩০ জুলাই, ২০১৯-এ রাজ্যসভায় তালাক বিল পাশ হয়েছে। এর আগে লোকসভায় অনুমোদিত হয়েছে তালাক অর্ডিন্যান্স বিল। ওই বিলে তাৎক্ষণিক তিন-তালাককে ফৌজদারি তকমা দেওয়া হয়েছে। এর পরেও তিন তালাকের নামে নির্যাতন বন্ধ হয়নি। কখনও স্বামীর ঘাড়ধাক্কা, অত্যাচার,  আবার কখনও পুড়ে মরতে হচ্ছে আরও অনেক সায়েদাকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More