অযোধ্যা মামলার রায়ের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট, যোগীর রাজ্যে গ্রেফতার ৩৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনিতেই সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে চিন্তার শেষ নেই প্রশাসনের। কখন কে কী গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা নিয়ে নাজেহাল হয়ে পড়ছে সকলে। তার উপরে আছে উস্কানিমূলক কথাবার্তা। ধর্মীয় বিদ্বেষ ও জাতিহিংসা ছড়ানোর ঘটনাও কম ঘটে না এই সোশ্যাল মিডিয়াতেই। এখন সকলের হাতে হাতে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ। ফলে পরিস্থিতি খারাপ হতে সময় নেয় না।

    এই অবস্থায় বাবরি মসজিদের বহু প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণার দিনে যে সোশ্যাল মিডিয়ার উপরেও অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। রায়ঘোষণার আগে-পরে কেউ যাতে কোনও ভুল খবর বা মিথ্যে বার্তা না ছড়ায়, সে জন্য আগে থেকেই সতর্ক করেছিল প্রশাসন। বারবার সাধারণ মানুষকে সংযত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কোনওরকম প্ররোচনামূলক কথা ছড়াতে বা প্ররোচনার ফাঁদে পা দিতে বারণ করা হয়েছিল।

    কিন্তু তা সত্ত্বেও বাস্তব পরিস্থিতি এড়ানো গেল না। শনিবার বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণার পর থেকে রবিবার পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে মোট ১২টি এফআইআর দায়ের এবং ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনভিপ্রেত পোস্ট করার অভিযোগে।

    উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মামলা সম্পর্কিত তিন হাজার ৭১২টি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। তার মধ্যে কিছু পোস্ট ইতিমধ্যেই মুছে দেওয়া হয়েছে। বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে অনেকের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। কিন্তু নেটিজেনদের পাল্টা অভিযোগ, কোনও প্ররোচনা বা উস্কানি ছাড়াও, কেউ ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করলেও তা নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে প্রশাসন।

    উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজিপি ওপি সিংহ অবশ্য এই অভিযোগ মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে খারাপ হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্ট বা একটি মন্তব্য অনেক সময়েই আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে। তাই প্রয়োজন পড়লে রাজ্যের সর্বত্র আরও বেশি করে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা বসানো হবে, যাতে গুজব ছড়িয়ে কেউ অশান্তিতে ইন্ধন জোগাতে না পারে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারির পাশাপাশি প্রযুক্তি নির্ভর কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে রাজধানী লখনউতে। সেখানে বসেই অযোধ্যা-সহ পুরো রাজ্যের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন উত্তরপ্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মকর্তারা। কোথাও কোনও অসঙ্গতির আঁচ বুঝলেই পুলিশ বা সেন্ট্রাল ফোর্স পাঠানো হচ্ছে।

    সূত্রের খবর, প্রশাসনিক কর্তারা সব দিকে নজর রাখলেও, ব্যক্তিগত ভাবে সব কিছুর তদারকি করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ নিজে। এ ছাড়াও সারা রাজ্যে খোলা হয়েছে একাধিক এমার্জেন্সি সেন্টার, যাতে কোথাও গোলমাল হলেই তৎক্ষণাৎ সাহায্য পান স্থানীয় মানুষ এবং খবর পেলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে পারে প্রশাসন।। কড়া নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে রাখা হয়েছে গোটা রাজ্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More