বাংলায় ডেঙ্গি যেন মহামারী, জ্বরে ভুগে চার দিনে তিন জনের মৃত্যু কলকাতার হাসপাতালে

১৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে তিন-তিনটি মৃত্যু হল রাজ্যে। সোমবার কলকাতার অ্যাপোলো গ্লেনেগ্যালস হাসপাতালে মারা গেলেন নিউটাউনের বাসিন্দা ফিরজিনা খাতুন। একই দিনে আরজিকরে মৃত্যু হয়েছে শ্যামবাজারের কিশোরী দেবাংশী মণ্ডলের। দু’জনের ডেথ সার্টিফিকেটেই এনএস ১ পজিটিভের উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এনএস ১ পজিটিভ মানেই রোগীর ডেঙ্গি হয়েছে বলে নিশ্চিত। এই দুই মৃত্যুর আগেই শুক্রবার দেগঙ্গার ৩৩ বছরের আজিজুল হকের মৃত্যুর খবর এসেছে আরজিকর হাসপাতাল থেকেই। যদিও হাসপাতাল সূত্রে দাবি করা হয়েছে ওই যুবকের মৃত্যুর কারণ মেনিঙ্গো এনসেফ্যালাইটিস, কিন্তু তাঁর পরিবারের দাবি, ডেঙ্গিতেই মারা গেছেন আজিজুল।

বৃহস্পতিবার থেকে জ্বর নিয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ফিরজিনা। আদতে বাঁকুড়া থেকে আসা এই তরুণী বিয়ের পরে নিউটাউনের নারকেল বাগানে থাকতেন স্বামী নাসিম আলির সঙ্গে সঙ্গে। নাসিম আলি পেশায় অধ্যাপক। দেড় বছর আগেই বিয়ে হয়েছিল ফিরজিনা-নাসিমের। কয়েক মাসের এক কন্যাসন্তানও রয়েছে তাঁদের।

অসুস্থ স্কুলছাত্রী দেবাংশীর জ্বর কমছিল না স্থানীয় চিকিৎসকের ওষুধের পরেও। তাই রক্ত পরীক্ষা করানো হয় তার। তাতেই রিপোর্ট আসে এনএস ১ পজিটিভ। ক্রমেই কমছিল কিশোরীর প্লেটলেট। সোমবার তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাতের দিকে মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর।

অন্য দিকে দেগঙ্গার ডেঙ্গি-পরিস্থিতি আরও খারাপ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘরে ঘরে জ্বর বাড়ছে। সেই সঙ্গে এলাকায় বাড়ছে ক্ষোভ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকের রক্তপরীক্ষা করে ডেঙ্গির জীবাণুও মিলেছে। হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে অনেককে। মৃত্যুও বাড়ছে।

কিছু দিন আগেই দেগঙ্গাতেই মৃত্যু হয় সেখানকার বাসিন্দা সইফুল বিশ্বাস, পাপিয়া খাতুন, ফারুক মোল্লা। তিন জনেরই পরিবারের দাবি, ডেঙ্গিতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। এর পরে শুক্রবার আজিজুলের মৃত্যুতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে দেগঙ্গায়।

আজিজুলের পরিবার জানিয়েছে, দিন সাতেক ধরে জ্বরে ভুগছিলেন আজিজুল। সেই সঙ্গে মাথার যন্ত্রণা ও বমি। স্থানীয় ডাক্তারের চিকিৎসায় জ্বর না কমায় আজিজুলকে বিশ্বনাথপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে আর জি করে পাঠানো হয়। সেখানেই শুক্রবার মারা যান আজিজুল। পরিবারের দাবি, স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করেছিলেন তাঁরা। সেই পরীক্ষাতেই ডেঙ্গি ধরা পড়ে। তবু বাঁচানো গেল না তাঁকে। উল্টে আরজিকর দাবি করল, ডেঙ্গি হয়নি রোগীর।

সরকারি স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ডেঙ্গি রোগ শনাক্ত করার জন্য এলাইজা টেস্টকেই মাপকাঠি বলে ধরা হয়। কিন্তু গত তিন বছর ধরে যে ভাবে ডেঙ্গি রোগের ভাইরাস দাপট বাড়াচ্ছে এবং আরও বেশি করে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, তাতে রোগ শনাক্ত করতেও অনেক সময়ে সমস্যা হচ্ছে। একই ভাবে সমস্যা হচ্ছে এ রোগের চিকিৎসা করতেও। ফলে ভয়াবহ মাত্রায় বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ।

সরকারি পরিসংখ্যানই বলছে, উত্তর ২৪ পরগনায় ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার ছুঁয়েছে। তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন এই সপ্তাহেই। তবে শুধু মফস্বলেই নয়, কলকাতা, সল্টলেক, দমদমের মতো এলাকাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে ডেঙ্গি-রোধী পদক্ষেপও করা হচ্ছে বলে দাবি করছে সরকারের। কিন্তু তাতেও আটকানো যাচ্ছে না সমস্যা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More