স্ত্রীর জন্য সিট চাইতেই মার, স্বামীকে পিটিয়ে মারল ট্রেনযাত্রীরা

অভিযোগ, উন্মত্ত জনতার ভিড়ে ছিলেন ৬ জন মহিলাও। মুম্বইয়ের লাতুর-বিদার এক্সপ্রেসে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেনে উঠে স্ত্রীর জন্য জায়গা রাখতে গিয়েছিলেন স্বামী। তার জেরেই শুরু হয় তুমুল বচসা। এরপর ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ১২ জন যাত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, উন্মত্ত জনতার ভিড়ে ছিলেন ৬ জন মহিলাও। মুম্বইয়ের লাতুর-বিদার এক্সপ্রেসে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটেছে।

    কল্যাণের বাসিন্দা সাগর মরকন্দ, তাঁর স্ত্রী জ্যোতি এবং দু’বছরের মেয়েকে নিয়ে বুধবার রাতে কল্যাণ স্টেশন থেকেই ট্রেনে চড়েছিলেন। জেনারেল কামরায় কোনও সিট খালি ছিল না। রেল পুলিশের এসপি দীপক সাতোরে জানিয়েছেন, একটাও জায়গা খালি না পেয়ে কয়েকজন মহিলাকে একটু সরে বসার অনুরোধ করেন সাগর, যাতে তাঁর স্ত্রী ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে বসতে পারেন।

    এরপরেই শুরু হয় ঝামেলা। ওই ব্যক্তিকে নানা ভাবে কটূক্তি করতে শুরু করেন মহিলারা। বেশ কিছুক্ষণ মাথা ঠান্ডা রাখলেও শেষ পর্যন্ত রেগে যান সাগর মরকন্দ। অবশেষে তেড়েফুঁড়ে ঝগড়া করতে যান তিনিও। এরপরেই শুরু হয় বেধড়ক মার। ট্রেনের মধ্যে ফেলে সাগরকে বেদম মারতে শুরু করেন জনা ছয়েক মহিলা। আশপাশ থেকে জড় হয়ে যায় আরও অনেক লোক। কিল-চড়-লাথি-ঘুষি বাদ যায়নি কিছুই। সাগরের স্ত্রী জ্যোতি জানিয়েছেন, “আমি বারবার ওদের অনুরোধ করছিলাম সাগরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কেউ আমার কথা কানেই নেয়নি।”

    পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় পুণে স্টেশনের কাছাকাছি ছিল ট্রেন। পরের স্টেশন দৌন্ড-এ পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে সাগরকে পিটিয়েছে উন্মত্ত যাত্রীরা। দৌন্ডে ট্রেন ঢোকার পরে রেল পুলিশকে সব জানান জ্যোতি। তড়িঘড়ি ছুটে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে সাগরকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। পরে সেখানেই মারা যান ওই ব্যক্তি।

    জানা গিয়েছে, শোলাপুর জেলার কুর্দুওয়াদিতে যাচ্ছিলেন সাগর এবং তাঁর পরিবার। এক আত্মীয়ের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। মাঝপথেই ঘটল অঘটন। গণপিটুনির জেরে মরতে হল সাগর মকরন্দকে। পুলিশ জানিয়েছে এই ঘটনায় ৬ জন মহিলা এবং ৪ জন পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। আর কারা এই ঘটনায় যুক্ত সেটাও জানার চেষ্টা চলছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More