রবিবার, নভেম্বর ১৭

আজ মমতার বেতন বৈঠক, বিকেলে প্রকাশ ফাইনাল রেজাল্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ ২৩ সেপ্টেম্বর। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজই ঠিক হয়ে যাবে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের কতটা সুপারিশ কার্যকর করবে সরকার। বিকেল তিনটেয় বৈঠক। তার আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের চোখ নবান্নের দিকে।

এজ্য সরকারি কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামো লাগুর ঘোষণা আগেই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৩ সেপ্টেম্বর শাসক দল প্রভাবিত সরকারি কর্মচারীদের সভায় মমতা নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রতীক্ষা ও জল্পনার অবসান ঘটান। কিন্তু সেই ঘোষণাতেও একটা ধোঁয়াশা রয়ে যায়। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন হারে বেতন পাওয়া যাবে এটা ঠিক কিন্তু বেতন কমিশন গঠনের সময় থেকে বকেয়া এরিয়ার কি দেবে সরকার?

সেই দিনেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি ভাবে বেতন কমিশন লাগুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার আগে কমিশনের সুপারিশগুলি পর্যালোচনা করা হবে। সেদিন মূল কথা বলে দিলেও বাকি কোনও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এদিন হয় কিনা তা দেখার অপেক্ষা। তবে নবান্ন সূত্রে খবর, বাড়তি খরচ হতে পারে এমন কোনও ঘোষণা এদিন আর করা হবে না।

১৩ সেপ্টেম্বর নেতাজি ইন্ডোরে তৃণমূলের কর্মচারী ফেডারেশনের সাংগঠনিক সমাবেশ ছিল। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বেতন কমিশনের সুপারিশের প্রথম ভাগটা আজই হাতে পেয়েছি। কমিশন যা সুপারিশ করেছে, আমরা সেটাই মানব।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি প্রয়োগ করেই যে বেতন বাড়ছে, মুখ্যমন্ত্রী সে কথা জানাতেই ফের হাততালি পড়ে। কিন্তু বকেয়া বেতন কতটা মিলবে, কিংবা আদৌ মিলবে কিনা তা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি মমতা। ফলে সেই দিন থেকেই এনিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। তবে এটাও ঠিক যে, কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকার জানিয়েছেন, বকেয়া দেওয়ার কোনও সুপারিশ করা হয়নি। তবে সরকার চাইলে সেটা দিতেই পারে।

আর্থিক টানাটানির মধ্যেও রাজ্য সরকার কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করছে বলে আগেই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, এ বার থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১৭ হাজার ৯৯০ টাকা হবে। একই সঙ্গে গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা ৬ লক্ষ থেকে বেড়ে ১০ লক্ষ। সেই সঙ্গেই মমতা বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার সহানুভূতির সঙ্গে বিচার করবে। ২৩ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে আলোচনা হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। তার পর বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হবে।’’

২০১৫ সালের শেষ দিকে তৈরি হয় রাজ্য সরকারের এই পে কমিশন। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে পৌনে চার বছর বাদে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু, এত দিনের বকেয়া এরিয়ারের কী হবে? সরাসরি সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। সেটা মিললে সরকারি তহবিলে বিপুল অঙ্কের ধাক্কা হবে। সেটা যে মিলবে না তা ধরেই নিয়েছেন কর্মীরা। তবুও তারা মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে।

একই সঙ্গে রয়েছে আরও এক দাবি। স্যাটের নির্দেশ মতো আগে রাজ্য সরকারের উচিত বকেয়া ডিএ মেটানো, তার পরে বেতন কমিশন। কিন্তু রাজ্য ইতিমধ্যেই বেতন কমিশনের ঘোষণা করে দিলেও বকেয়া ডিএ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেনি এখনও পর্যন্ত। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠেক সে ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হয় কিনা সেদিকেও তাকিয়ে কর্মচারী মহল।

Comments are closed.