৩৭০ ধারা বিলোপে আপত্তি তৃণমূলের, গণতন্ত্রের কালো দিন বললেন ডেরেক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করে দেওয়া তথা সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের তীব্র প্রতিবাদ জানাল বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

    সোমবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এ ব্যাপারে ঘোষণা করার পর পরই প্রতিবাদে কংগ্রেস সাংসদদের সঙ্গেই ওয়েলে নেমে পড়েন তাঁরা। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানও তোলেন। তবে কেন তাঁরা এর বিরোধিতা করছেন তা স্পষ্ট ভাবে তখনও জানায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

    পরে রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য এটা কালো দিন। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হয় সংবিধানকে ভুলে গেছে, নইলে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। কোনও রকম আলোচনা ছাড়া যে ভাবে কাশ্মীরকে ভাগ করা হল, তা অবিশ্বাস্য। কাল তো এ ভাবেই বাংলাকে চার টুকরো করে দেবে। ওড়িশা-কে ভেঙে দেবে! সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে এটা মস্করা করা ছাড়া আর কিছু না!”

    জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পাশাপাশি এ দিন আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। তা হল,- জম্মু ও কাশ্মীরকে পৃথক দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়া হবে, – লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ দিনই রাজ্যসভায় জম্মু কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এই বিল পাশ করাতে গেলে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করলেই হবে। দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন নেই।

    লোকসভায় একাই তিনশ-র বেশি আসন দখল করতে পারলেও রাজ্যসভায় এখনও সংখ্যালঘু বিজেপি তথা এনডিএ। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই দেখা যায়, বিল পেশ হওয়া মাত্রই বিজু জনতা দল, বহুজন সমাজ পার্টি, এআইডিএমকে, জগন্মোহনের ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বন্ধুবর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও সরকারকে সমর্থন জানায়। সরকারের প্রস্তাবে শুধু বিরোধিতা করে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং সংযুক্ত জনতা দল।

    রাজনৈতিক শিবিরের মতে, তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি সরকারের এই সিদ্ধান্তের জেরে ফাঁপড়ে পড়ে গিয়েছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন এর বিরোধিতা না করলে সংখ্যালঘুরা অখুশি হবেন। কিন্তু তীব্র বিরোধিতা করার ঝুঁকিও কম নেই। তা সংখ্যাগুরুর ভাবাবেগে আঘাত দিতে পারে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিজেপি-ও চায় কংগ্রেস-তৃণমূল এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করুক। তাতে তাঁরা পাল্টা রাজনৈতিক লাভ দেখছেন।

    এ দিন সংসদে অমিত শাহ ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বিজু জনতা দল। বিজেডি সাংসদ প্রসন্ন আচার্য বলেন, “পুনর্গঠনের প্রস্তাবে আমরা সমর্থন করছি। আঞ্চলিক দল হলেও আমাদের কাছে দেশই প্রথম”। একই ভাবে বহুজন সমাজ পার্টির নেতা সতীশ মিশ্র বলেন, “ব্যাপারটা শুধু জম্মু কাশ্মীরের সংখ্যালঘু আবেগের দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। মনে রাখতে হবে দেশের অন্য অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের জম্মু কাশ্মীরে গিয়ে নাগরিকত্ব লাভ করার অধিকারও নেই। এটা চলতে পারে না”। এআইডিএম-ওয়াইএসআর কংগ্রেসেরও বক্তব্য, এক দেশে দু’রকম সংবিধান থাকতে পারে না। সেই কারণেই সরকারের পদক্ষেপে সমর্থন জানানো হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবে শিবসেনার প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনায় অনেক আগ্রাসী। শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, এতোদিনে ভস্মাসুরের বিনাশ হল। ৩৭০ ধারা দেশের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে রাখার প্রতীক ছিল। শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন “ভারত আজ আক্ষরিক অর্থেই স্বাধীন হল।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More