বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

ব্যান্ডেলের গুলিবিদ্ধ পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর মৃত্যু, থমথমে চুঁচুড়ায় কাল বনধের ডাক তৃণমূলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সাতসকালে ব্যান্ডেলে স্টেশনে রেললাইনের উপরেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান ঋতু সিংয়ের স্বামী দিলীপ রাম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয় চুঁচুড়া হাসপাতালে। জানা গিয়েছিল, মাথার পিছনে গুলি লেগেছে তাঁর। পরে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। আচমকাই এ হেন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আগামীকাল অর্থাৎ রবিবার চুঁচুড়া বনধের ডাক দিয়েছে তৃণমূল।

পুলিশ জানিয়েছে রেলে চাকরি করতেন দিলীপ রাম।শনিবার সকালে ব্যান্ডেল স্টেশনে ট্রেন ধরতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় দু’জন দুষ্কৃতী এসে গুলি চালায়। নিহত দিলীপবাবুর স্ত্রী দাবি করেছেন জনৈক লালু নামের ব্যক্তির ভাই বিজুই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এর আগে ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনও হামলা হয়েছিল দিলীপবাবুর উপর।

এই ঘটনায় হুগলি জেলার তৃণমূল সভাপতি তপন দাশগুপ্ত বলেন, “নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই ধরণের কাজকর্ম বেড়ে গিয়েছে। পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। আমরা অপরাধীদের গরাদের ভিতর দেখতে চাই। নইলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবো।” এর পাশাপাশি পুলিশি নিষ্ক্রয়তারও অভিযোগ তুলে তপনবাবু বলেন, “আমরা জানি কিছু পুলিশকর্মীও দুষ্কৃতীদের মদত দিচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেল পুলিশের সঙ্গে রাজ্য পুলিশও এই ঘটনার তদন্ত করবে।”

শনিবার সকালে এই ঘটনার পরেই জেলা সভাপতি বলেছিলেন বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন তাঁরা। দিলীপ রামের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই আগামীকাল চুঁচুড়া বনধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। তবে এই খুনের ঘটনায়, বিজেপি কর্মী (তৃণমূলের একাংশের দাবি) বিজুর নাম জড়ালেও, বিজেপি জেলা সভাপতি সুবীর নাগ বলেন, “দলের কোনও বড় দায়িত্বে বিজু যুক্ত নেই। যদি কোনও বিজেপি কর্মী অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে দল তাঁকে নির্দ্বিধায় বহিষ্কার করবে।” পাশাপাশি এই ঘটনায় শাসক দলেরই জড়িয়ে থাকার সম্ভাবনা আছে বলে ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

মাঝে শোনা গিয়েছিল, বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও নাকি যোগাযোগ রাখছিলেন আহত দিলীপ রাম। এই প্রসঙ্গে সুবীরবাবু বলেন, “অন্য অনেকের মতোই উনিও যোগাযোগ করেছিলেন। তবে যোগ দেননি। তবেঁ এর আগেও দেখা গেছে শাসক দলের কেউ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করল তাঁর বিরুদ্ধে শাসক দল অনেক বড় ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্ত হোক। তাহলেই সব সত্যি জানা যাবে।”

এ দিন দিলীপ রামের উপর হামলার পরেই তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের বাকিরা দাবি করেছিলেন যে আগে থেকেই আন্দাজ ছিল দিলীপবাবুর উপর হামলা হতে পারে। সে কথা পুলিয়াহকে জানানোও হয়েছিল বলে দাবি করেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। নিহতের স্ত্রী ঋতু সিংয়ের অভিযোগ প্যালিশ নিষ্ক্রিয়তার জন্যই মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্বামীর। এই ব্যাপারে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, “তদন্ত শুরু হয়েছে। সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীকে ধরার চেষ্টা চলছে।”

Comments are closed.