ঠগ বাছতে গিয়ে তুমুল কোন্দল তৃণমূলে, প্রকাশ্য ঝগড়া অরূপ-রাজীবের, অস্বস্তিতে দল

সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলের হাওড়া জেলার পর্যবেক্ষক হলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজীবের মন্তব্যের ব্যাপারে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “রাজীবের কোনও বক্তব্য থাকলে তা দলের মধ্যেই বলতে পারত। বাইরে বলা ঠিক হয়নি।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোট আসছে। তার আগে দলে দুর্নীতিপরায়ণদের ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ যখন শুরু করেছে তৃণমূল, তখন না নিয়েই আবার উল্টো বিড়ম্বনা শুরু হয়ে গেল। উমফানের ত্রাণের টাকা নিয়ে অনিয়ম ও অন্য দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া, বর্ধমান, হুগলি সহ কয়েকটি জেলায় নিচুস্তরের ডজন খানেক তৃণমূল নেতাকে সাসপেন্ড বা শো-কজ করেছে দল। তা নিয়ে স্থানীয় স্তরে কোন্দলও হয়েছে। কিন্তু এ বার সেই একই ধরনের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য ঝগড়ায় নেমে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রী অরূপ রায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন

চিন সীমান্তে উত্তেজনার মাঝে ২২টি অ্যাপাচে, ১৫টি চিনুক যুদ্ধবিমান এল ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে

কদিন আগে জেলার তিন নেতাকে সাসপেন্ড করেছেন হাওড়ার জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়। শনিবার তা নিয়েই তীব্র সমালোচনা করে ডোমজুড়ের বিধায়ক তথা বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাঘববোয়াল, রুই, কাতলা, ইলিশদের ছেড়ে চুনোপুঁটিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”। তাঁর কথায়, “চুনোপুঁটিরা অন্যায় করলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা নিয়ে আপত্তি করছি না। কিন্তু যে সব রাঘববোয়াল দুর্নীতিবাজ বলে পরিচিত, তাঁরা কারও কাছের মানুষ হওয়ার কারণেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না”। অরূপ রায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল দেখিয়ে রাজীব বলেন, দল নির্দেশ দিয়েছিল এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তাতে যেন আমাকে সামিল করা হয়। কিন্তু আমাকে অন্ধকারে রেখে এক তরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এমনিতে হাওড়া জেলার রাজনীতিতে অরূপ-রাজীব এই দুই প্রবীণ-নবীনের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই আদায় কাঁচকলায়। এই রসায়নের ছোট নমুনা সম্প্রতি পঞ্চায়েত ভোটের সময়েও পাওয়া গিয়েছিল। অভিযোগ, অরূপ তথা দলের মনোনীত প্রার্থীকে নির্দল প্রার্থী দিয়ে হারিয়ে দিয়েছিলেন রাজীব।

সে যাক। এদিন রাজীবের প্রকাশ্য অভিযোগ শুনে চটেছেন অরূপ রায়। তৃণমূল দলের প্রতি রাজীবের নিষ্ঠা ও একাত্মতা নিয়ে তিনি আবার প্রশ্ন তুলেছেন। জেলা সভাপতি বলেন, “উনি সাচ্চা তৃণমূল কর্মী হলে এ সব কথা মিডিয়ায় বলতেন না। কোনও অভাব অভিযোগ থাকলে দলের মধ্যেই বলতেন”। রাজীবের এই আচরণের কারণে বিজেপি সুবিধা পেয়ে যাবে বলেও ঘরোয়া মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অরূপ। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি যা করেছি, তা রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গে কথা বলেই করেছি। তা ছাড়া ওনাকে (পড়ুন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে) অনেক বার প্রেস কনফারেন্সে ডেকেছি, কখনওই উনি আসেন না”।

তৃণমূলে দুই মন্ত্রীর প্রকাশ্য সপ্তাহান্তের মেজাজে ও আলোচনায় নতুন খাদ্য যুগিয়েছে। বিরোধীরা আবার একেক রকম ভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যেমন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ যে কথা বলেছেন, তাতে তৃণমূলের অনেকেই গালে হাত ভাবতে বসেছেন। দিলীপবাবু বলেছেন, “রাজীব বিবেকের তাড়নায় এ সব কথা বলছেন। ওই দলে থেকে বিরোধিতা করা যায় না।” রাজীবের বিবেকের তাড়না নিয়ে দিলীপের এই সহানুভূতি ভাবনার বিষয় বটে।

আবার লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “এখানে বিবেক আবেগের প্রশ্ন নেই। তৃণমূল দলের কোনও মতাদর্শ নেই। মতাদর্শ যদি থেকে থাকে তা একটাই—আখেড় গোছাও। বিরোধ তা নিয়েই।” অধীরবাবু বলেন, “এ ক্ষেত্রে বাস্তুতন্ত্রটা বুঝতে হবে। মানে ইকোসিস্টেম। প্রত্যেককেই তাঁর নিজের লোকেদের দেখতে হয়, কারণ সেই সব লোক সারা বছর তাঁকে দেখেন। ফলে কোনও অভিযোগের সুযোগ নিয়ে এই সৈন্যদের মধ্যে কাউকে ছেঁটে দিলে রাগ তো হবেই”। অধীরবাবু আরও বলেন, আরেকটা বিষয় খেয়াল করার মতো। এক জন মন্ত্রী তাঁর দলের কর্মী, নেতাকে চুনোপুঁটি, রাঘববোয়াল, রুই, কাতলা, ইলিশ – যা নয় তাই বলছেন। মানে দলের পারস্পরিক মর্যাদাবোধটাই নেই”।

সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলের হাওড়া জেলার পর্যবেক্ষক হলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজীবের মন্তব্যের ব্যাপারে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “রাজীবের কোনও বক্তব্য থাকলে তা দলের মধ্যেই বলতে পারত। বাইরে বলা ঠিক হয়নি।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More