মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮
TheWall
TheWall

গলব্লাডারে স্টোন ঠেকানোর টোটকা, জানুন অপারেশনের পরে কী কী নিয়ম মানলে দ্রুত সেরে উঠবেন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রক্তে কোলেস্টেরল যদি বেশি হয় বা বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় তাহলে পিত্তরসের ক্ষরণে বাধা আসে। তখন সেই পিত্তরস পিত্তথলিতে জমতে জমতে ছোট ছোট পাথর তৈরি করে, যাকে আমরা গলব্লাডারে স্টোন বা গলস্টোন বলি। এই অসুখ সবচেয়ে বেশি কাবু করে মহিলাদের। তুলনায় কম আক্রান্ত হলেও পুরুষরাও এই অসুখের বাইরে নয়।  গলবাল্ডারে স্টোন বা গলস্টোন এখন ঘরে ঘরে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, হরমোনাল অসুখ, কোলেস্টেরলের বাড়বাড়ন্ত, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, পিত্তথলিতে পাথর জমার কারণ অনেক।

কেন জমে পিত্তথলিতে পাথর?

মহিলাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন অথবা মেদ ঝরাতে ক্র্যাশ ডায়েট, ঘন ঘন উপোস, অসময়ে খাওয়া এই রোগকে নিমন্ত্রণ করে ডেকে আনে। মেনোপজের পর হরমোন রিপ্লেসমেন্টের কারণেও এই রোগ হয়। প্রচুর পরিমাণে গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে মহিলাদের ক্ষেত্রে পিত্তথলিতে পাথর জমার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। গর্ভাবস্থায় হরমোনের ওঠানামাও এই রোগকে উস্কে দেয়। আবার ধরুন কোনও মহিলার বয়স যদি ৬০ বছরের কাছাকাছি হয় এবং তিনি ডায়াবিটিক হন বা কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ ঘন ঘন খেয়ে থাকেন, তা হলেও পিত্তথলিতে পাথর জমার আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।


কখন সাবধান হবেন?

পিত্তথলিতে পাথর জমা শুরু হলে পেটের উপরের অংশে ডান দিকে ব্যথা শুরু হয়। সেটা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে ডান কাঁধ অবধি। এমন কিছু হলে তখনই সাবধান হওয়া উচিত।

পেট ব্যথার সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।

তেলমশলাদার খাবার বা বেশি খেলে ব্যথা বাড়ে। সঙ্গে ঘন ঘন বমি।

অনেক সময়ে পিত্তথলিতে পাথর জমতে শুরু করলে হেপাটাইটিসেরও সংক্রমণ হয়। তাই পেটে ব্যথার সঙ্গে হেপাটাইটিস ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানো উচিত।

রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়মিত পরিমাপ করে গলস্টোন সম্পর্কে আগাম আভাস পাওয়া যেতে পারে।  রক্তে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধিও গলস্টোনের অন্যতম কারণ বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গলব্লাডারে পাথর জমলে অপারেশন ছাড়া গতি নেই। তবে খাদ্যাভ্যাসে বদল আনলে এই রোগ ঠেকানো সম্ভব। অপারেশনের পরেও দ্রুত শরীর সারিয়ে তোলা যায়। তার জন্য পরিমিত খাবার, জীবনযাপনে কিছুটা সংযম, বিয়েবাড়ি বা পার্টিতে মেপে খাওয়া, অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা—এই সব মেনে চললে রোগের ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

এখন দেখে নেওয়া যাক, রোগ ঠেকাতে গেলে কী খাবেন আর কী খাবেন না।

১) অপারেশনের পর কিছুদিন তরল খাবারেই ভরসা রাখুন। হজম করতে পারলে দিনে লো–ফ্যাট দুধ বা দুধের তৈরি খাবার খান৷ ২৫০ মিলি দুধ বা এই পরিমাণ দুধে বানানো ছানা, ৫০ গ্রাম চিজ, ১৭৫ মিলিলিটার ইয়োগার্ট বা টক দই৷  তবে ক্রিম দেওয়া কিছু না খাওয়াই ভাল।

২) ভাজা, তেলমশলাদার খাবার একেবারেই নয়। গলস্টোনের অপারেশনের পরেও ব্যথা কিছুদিন থাকে। সামান্য তেল পেটে গেলেও বমি বা পেট খারাপের সম্ভাবনা থাকে। তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে চাইলে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চর্বি যুক্ত মাংস, আইস-ক্রিম, যে কোনও ক্রিম জাতীয় খাবার, পিৎজা, সস, চকোলেট এবং যাবতীয় বার্গার, বেকন, সালামি থেকে শত হাত দূরে থাকুন। ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার বা পানীয় কম করে খান৷

৩)  ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়৷ যেমন, সবুজ শাক-সবজি, ফল, ব্রাউন রাইস, আটা–জোয়ার–বাজরার রুটি, ব্রাউন ব্রেড, খোসাওলা ডাল ইত্যাদি৷ পি–নাট বাটার খেতে পারেন।

৪)  মাংস বা চিকেনের যে অংশে চর্বি কম থাকে সেই অংশ খান৷ চিকেনের চামড়া ছাড়িয়ে নেবেন অবশ্যই৷ খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য আনুন। নিরামিষ প্রোটিনও খাবেন মাঝে মাঝে৷

৫) যে ফ্যাট শরীরের জন্য ভাল এমন কিছু রাখুন রোজের ডায়েটে। যেমন বাদাম, অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল। দিনে ২–৩ টেবিল চামচ বা ৩০–৪৫ মিলি–র বেশি তেল খাবেন না৷

৬) লো–ক্যালোরির সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন যাতে স্থূলত্ব, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের প্রকোপ কম থাকে৷

Share.

Comments are closed.