রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

মধ্যপ্রদেশে মানুষখেকো! শিক্ষককে জঙ্গলে টেনে নিয়ে খুবলে খেল বাঘ, অবশিষ্ট মুন্ডু আর দুই পা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খোঁজ মিলছিল না দুপুরের পর থেকেই। গোটা এলাকা তল্লাশি চালিয়ে শেষে গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে ঢোকে পুলিশ। যেখান থেকে ঘন ডালপালার জঙ্গল শুরু হচ্ছে সেখানে মেলে একজোড় জুতো। রক্তমাখা। রক্তের দাগের পাশের স্পষ্ট বাঘের থাবার ছাপ। ‘পাগ মার্ক’ ধরে এগোতেই খোঁজ মেলে ছিন্নভিন্ন দেহটার। তখন তাতে অবশিষ্ট মাথার অর্ধেক অংশ আর হাঁটুর পর থেকে দুই পা। চোখ আর গালের বাকি অংশ দেখে সনাক্ত করে পুলিশ। নিখোঁজ শিক্ষক মনোজ ধ্রুবে।

মধ্যপ্রদেশের সিওনি জেলার মুদিয়ারিথ গ্রামে বাড়ি মনোজ ধ্রুবের। তাঁর গ্রাম লাগোয়াই পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভ। ২৪ বছরের মনোজ গ্রামের একটি স্কুলের শিক্ষক। পাশাপাশি মাশরুমের একটি ছোট ফার্ম রয়েছে তার। মনোজের পরিবার জানিয়েছে, মাশরুম খুঁজতে প্রায়ই জঙ্গলের ভিতরে ঢুকত মনোজ। কারও বারণ শুনত না। মনে করা হচ্ছে, মাশরুম খুঁজতে গিয়েই জঙ্গলের একেবারে কোর এলাকায় পৌঁছে যায় সে। আর ফিরে আসতে পারেনি।

পুলিশ ও বনকর্মীদের কথায়, পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভের খাওয়াসা জোন থেকে মেলে মনোজের দেহের অবশিষ্টাংশ। ওই এলাকায় বাঘের সংখ্যা বেশি।  বনকর্মীদের কথায়, বাঘ মাটিতে ঘষটাতে ঘষটাতে নিয়ে গিয়েছিল মনোজের দেহ। রক্তের ছাপের সঙ্গে টেনে নিয়ে যাওয়ার দাগ ছিল স্পষ্ট।  তার মানে কি সিওনিতে মানুষখেকোর আগমন হল? আতঙ্ক ছড়িয়েছে লাগোয়া গ্রামগুলিতে।

পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভ দেশের অন্যতম সেরা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র। এখানে বাঘের সংখ্যা আগের থেকে বেড়েছে।  চোরাশিকারিদের উপদ্রব এখানে নেই বললেই চলে। রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর ভিএস পরিহার জানিয়েছেন, পাগ মার্ক আর মনোজের দেহের অংশ থেকে এটা স্পষ্ট তাকে বাঘেই খেয়েছে। তবে এটা দুর্ঘটনাই বলা যায়। কারণ বোঝা যাচ্ছে, মনোজ বাঘটিকে দেখেনি। অজান্তেই তার কাছাকাছি চলে গেছে, তাই সে আক্রমণ চালিয়েছে। বাঘটি প্রকৃতপক্ষে মানুষখেকো কি না সেটা একেবারেই বলা যাচ্ছে না। মৃতের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভের অন্য আধিকারিকদের কথায়, এই এলাকায় বাঘের হামলা আগে কখনো হয়নি। এটাই প্রথম মানুষ মারার ঘটনা। তাই মানুষখেকোর হামলার কথা জোর দিয়ে বলা যায়না।  নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জঙ্গলের ভিতরে ঢুকেছিলেন মনোজ। কোর এলাকার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। তাই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বাঘটা একবার মানুষের রক্তের স্বাদ পেয়ে গিয়েছে। এর পরে তার চালচলনের উপর নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বনকর্মীরা।

Comments are closed.