রবিবার, আগস্ট ১৮

#Breaking: যাঁরা টিকিট পাবেন না, নবান্নে একে একে ডাক পড়ছে তাঁদের?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের নির্বাচন কমিটির বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেবেন তিনি। তার আগে সোমবার গতবারের জেতা একাধিক সাংসদকে নবান্নে ডেকে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। মনে করা হচ্ছে, যাঁদের এ বার আর টিকিট দেবে না দল, তাঁদের সে কথা জানিয়ে দিতেই রাজ্যের সচিবালয়তে ডেকে পাঠিয়েছেন দিদি।

সোমবার বিকেলে একে একে নবান্নে আসেন আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার, ঝাড়গ্রামের সাংসদ ডাক্তার উমা সরেন এবং মেদিনীপুরের সাংসদ অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়। অপরূপা পোদ্দার এবং সন্ধ্যা রায় কিছু না বললেও, উমা সরেন বলেন, “আমি একজন চিকিৎসক। সেই পেশায় আমি ঠিক মতো সময় দিতে পারছি না। এ বার সেই পেশায় একটু সময় দেব।” তবে একবারও প্রার্থী হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে কোনও কথা বলেননি এই চিকিৎসক সাংসদ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ঝাড়গ্রাম আসন এ বার তৃণমূলের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গলমহলের এই জেলায় শাসক দলের পায়ের তলার মাটি সরিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। এমন অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমতির আসন ছিল, যে খানে তৃণমূল প্রার্থীই দিতে পারেনি । তাই এ বার লোকসভা ভোটে সতর্ক হয়েই ওই আসনে প্রার্থী দাঁড় করাতে চান মমতা।

আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের ক্ষেত্রেও জেলার রাজনীতিতে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। চোদ্দর ভোটে যখন অপরূপাকে প্রার্থী করে তৃণমূল, তখনই আরামবাগের দলীয় কর্মীরা প্রথমে তাঁর নাম মানতে চাননি। শুরুর দিকে প্রচারেও নামেননি অনেক কর্মী। যেহেতু অপরূপা রিষড়ার মেয়ে এবং চন্দননগরের বউ, তাই আরামবাগের কর্মীরা ‘বহিরাগত’ বলেই দেগে দিয়েছিলেন তাঁকে। তার উপর গত পাঁচ বছরে নিজের কেন্দ্রে যাওয়া নিয়েও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। অনেকে বলেন, আরামবাগ শহরে মাঝেমধ্যে এলেও, খানাকুল, গোঘাট, পুড়শুড়ার মতো প্রত্যন্ত এলাকায় সাংসদকে ক’দিন দেখা গিয়েছে তা হাতে গুনে বলে দেওয়া যাবে। তাই এ বারের নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে কর্মীদের মধ্যে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হোক তা চাইছেন না নেত্রী। মনে করা হচ্ছে তাঁকে ডেকেও খোলাখুলি টিকিট না দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন দিদি।

অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়কে গত ভোটে মেদিনীপুরে প্রার্থী করেছিলেন দিদি। শাসক দলের ভিতরে অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন, এ বারে আর তাঁকে টিকিট দেবেন না দিদি। পর্যবেক্ষকদের মতে, গত ভোটের প্রার্থী নির্বাচন আর এ বারের সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। কারণ গত পাঁচ বছরে বাংলার রাজনীতির সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এ বার সেই বিলাসিতার সুযোগ নেই।

এ দিন দুপুরে নবান্নে ডেকে পাঠানো হয়েছিল ব্যারাকপুরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকেও। তাঁর সঙ্গে ডাকা হয়েছিল ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংকেও। সেটা যদিও অন্য ব্যাপার। অর্জুন সিং বিজেপি-র দিকে পা বাড়াচ্ছেন বলে কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্জুন কে দলে বেঁধে রাখার শেষ বেলার কৌশল হিসেবেই ডেকে কথা বলেছেন দিদি।

মঙ্গলবার দুপুরে মমতার কালীঘাটের বাড়িতে রয়েছে তৃণমূলের নির্বাচন কমিটির বৈঠক। মনে করা হচ্ছে তার পরেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেবেন নেত্রী। তার পরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, এ বারের প্রার্থী তালিকায় পুরনো মুখ কারা রইলেন, আর কারা গেলেন বাদ।

Comments are closed.