রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে দুরমুশ করল ভারত, ‘ওদের প্রধানমন্ত্রীই স্বীকার করেছেন সন্ত্রাসে মদতের কথা’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু লাদাখ সীমান্তেই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও লড়াই এ বার জমে উঠেছে। মঙ্গলবার ভারতীয় সময়ের রাতে জেনেভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের এক বৈঠকে পাকিস্তানকে দুরমুশ করল ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের ৪৫তম অধিবেশন চলছিল। সেখানেই পাক বিবৃতির জবাবি বক্তৃতায় নয়াদিল্লির দূত বলেন, পাকিস্তানের মুখে মানবিক অধিকারের কথা হাস্যকর। যে দেশ সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর, তাদের মুখে মানবাধিকার নিয়ে কোনও লেকচার শুনব না। হিন্দু, শিখ, খ্রীষ্টানদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর ওরা যা অত্যাচার করছে কহতব্য নয়।

বৈঠকে ভারতীয় কূটনীতিক আরও বলেন, মিথ্যা ও সাজানো তথ্য আর বুজরুকি দিয়ে ভারতকে অপদস্ত করার অপচেষ্টা এখন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে ইসলামাবাদ। ওদের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে স্বীকার করেন জম্মু কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর জন্য তাদের জঙ্গি শিবিরগুলিতে হাজারে হাজারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, সে দেশের মানবাধিকারের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে কি! এমনকি রাষ্ট্রপুঞ্জ যাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে সেই কট্টরপন্থীদেরও ভাতা দিচ্ছে ইসলামাবাদ।

নয়াদিল্লির কূটনীতিকদের মতে, চিন ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সখ্য বরাবরই ছিল। কিন্তু ইদানীং এই দুই প্রতিবেশি রাষ্ট্রই পালা করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে কোণঠাসা করতে তৎপর। পাল্টা অক্ষ রচনায় সক্রিয় নয়াদিল্লিও। মঙ্গলবারের বৈঠকে নয়াদিল্লির প্রতিনিধি বলেন, সমস্তরকম আন্তর্জাতিক মঞ্চ সন্ত্রাসের প্রশ্নে পাকিস্তানের ভূমিকার সমালোচনা করেছে। সন্ত্রাসবাদ দমনে তারা যে কোনও বিশ্বাসযোগ্য ও সদর্থক পদক্ষেপ করেনি তা ঘোর বাস্তব।

রাষ্ট্রপুঞ্জের বৈঠকে ভারত আরও জানিয়েছে যে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে বাইরের লোক ঢোকাচ্ছে ইসালামাবাদ। তার ফলে সেখানে কাশ্মীরিরাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। এটা সুপরিকল্পিত ভাবেই করছে ইসলামাবাদ। তা ছাড়া মতাদর্শগত ভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের তারা খতম করতে নেমেছে। জোর করে তাদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, তাদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুরা সেখানে বৈষম্যের শিকার। এমনও একদিন যায় না যে বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোওয়া বা সিন্ধের কোনও পরিবারের কাউকে পাক বাহিনী অপহরণ করে নিয়ে যায় না। তারা ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকে।

জেনেভায় ওই বৈঠকে পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি তথা অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশনের প্রসঙ্গও তুলেছিল। তার জবাবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ওআইসি-র বক্তব্যের কোনও গুরুত্বই নেই। কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ওআইসি-র মন্তব্য করার কোনও অধিকারই নেই। তা ছাড়া গোটা দুনিয়া জানে পাকিস্তানের নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কীভাবে ওআইসি-র অপব্যবহার করে। ইসলামিক অর্গানাইজেশনের অন্য সদস্য দেশগুলিকেও এবার ভাবতে হবে পাকিস্তানকে ওরা তা আর চালিয়ে যেতে দেবে কিনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More