কাশ্মীরে নিহত পাঁচ শ্রমিকের কফিনবন্দি দেহ ফিরল সাগরদিঘিতে, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফুটতেই কান্নার রোল উঠল সাগরদিঘির  বাহালনগরে। প্রিয়জন হারানোর আর্তনাদে ভারী হল বাতাস। কাশ্মীরে জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া নিথর দেহগুলো কফিনবন্দি হয়ে ফিরল গ্রামে।

    মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগর থেকে দিল্লি হয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছয় পাঁচ শ্রমিকের মরদেহ। ওই দিন রাতেই বিমানবন্দরে পৌঁছে যান রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।গোটা বিমানবন্দর ঘিরে ফেলা হয় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে। বিমানবন্দরের বাইরে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল ফুল দিয়ে সাজানো পাঁচটি শববাহী গাড়ি। দেহগুলিকে যত দ্রুত সম্ভব বাহালনগরে পৌঁছে দিতে  প্রশাসনের তরফেও যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ।

    বর্বোরচিত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারের হাতে সেই টাকা পৌঁছে দেবেন ফিরহাদ হাকিমই। তাঁর সঙ্গে এদিন সাগরদিঘি পৌঁছন  জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান।  তিনি বলেন, “কাশ্মীরের ৩৭০ করে কী লাভ হল? সাধারণ মানুষকে কুকুরের মত গুলি করে মারা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার চুপ করে বসে আছে। কাশ্মীরে যারা এই ছেলেদের মেরেছে তাদের কেন টেনে এনে মারা হচ্ছে না? “

    অন্যদিকে, গতকালই বহরমপুর থেকে সাগরদিঘি পৌঁছে গিয়েছেন সাংসদ তথা লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনিই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রামে দেহ আনার বিষয়টি দেখভাল করেছেন। ঘনঘন যোগাযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে।

    মঙ্গলবার দুপুরে জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গিদের এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া পাঁচ জন মজুর। গুরুতর জখম আরও এক। নিহত পাঁচ জনকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁরা হলেন, শেখ কামরুদ্দিন, শেখ মহম্মদ রফিক, শেখ নিজামুদ্দিন, মহম্মদ রফিক শেখ এবং শেখ মুরনসুলিন। আহত জাহিরুদ্দিনকে অনন্তনাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    কাশ্মীরে বাইরে থেকে আসা লোকেদেরই ইদানীং সন্ত্রাসবাদীরা আক্রমণের নিশানা করে নিয়েছে। অনেকের মতে, কারণ স্থানীয় মানুষ মারা গেলে তারা এলাকায় কোনওরকম সাহায্য বা মদত পাবে না বলেই মনে করছে। গতকালও অনন্তনাগে একজন ট্রাক ড্রাইভারকে গুলি করে মেরেছে জঙ্গিরা। সেই সঙ্গে সোপোরে একটি বাস স্ট্যান্ড লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে উপত্যকায় জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা যে অনবরত চলছে তা ধারাবাহিক ভাবে জানিয়ে চলছে ভারত। শুধু তা নয়, নয়াদিল্লির বক্তব্য যুদ্ধ বিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের তরফে গোলাবর্ষণও বিক্ষিপ্ত ভাবে চলছে। হতে পারে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটানোর জন্যই এই ধরনের গোলাবর্ষণ চালানো হচ্ছে। তবে তা রুখে দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীও তৎপর। কুলবাগের হামলাকারীদেরও খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা।

    http://www.thewall.in/pujomagazine2019/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae/

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More