‘থামছে না ঝড়, দেশ-সীমান্ত মানছে না’, করোনা নিয়ে গান বাঁধলেন জনপ্রিয় লোকশিল্পী হিমাংশু গোস্বামী

লোকগানে তিনি দেশ-বিদেশ মাতিয়েছেন। তাঁর সুরে মাতোয়ারা আট থেকে আশি। তাঁর লোকগানের কথায় সাম্প্রতিক নানা বিষয় উঠে এসেছে আগেও। এখন করোনা নিয়েই গান বেঁধেছেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘থামছে না ঝড়, থামছে না, দেশ-সীমান্ত মানছে না!’ মৃত্যু হচ্ছে হাজারে হাজারে, লাখে লাখে। কে থামাবে এই ভীষণ ঝড়? পৃথিবীর এই সঙ্কটের দিনে পরম ঈশ্বরকেই পরিত্রাতা রূপে পেতে চেয়েছেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হিমাংশু গোস্বামী। করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারেন সেই সর্বশক্তিমানই, গানের কথায় করোনা-মুক্তির এই দিশাই দেখিয়েছেন সিলেটের জনপ্রিয় লোকশিল্পী হিমাংশু গোস্বামী।

    লোকগানে তিনি দেশ-বিদেশ মাতিয়েছেন। তাঁর সুরে মাতোয়ারা আট থেকে আশি। তাঁর লোকগানের কথায় সাম্প্রতিক নানা বিষয় উঠে এসেছে আগেও। এখন করোনা নিয়েই গান বেঁধেছেন তিনি। “ওষুধে ধরছে না, জাদু-টোনায় দমছে না”, তাহলে করোনা যাবে কিসে?  “এই ঝড় বন্ধ করো, হালটা তুমি ধরো”, বিপদ থেকে বাঁচাতে ঈশ্বরকেই হাল ধরতে বলেছেন তিনি। এই গান আশার, ভরসার গান। দিনরাত আতঙ্কে গুটিয়ে যাওয়া মানুষকে জাগিয়ে তুলতে সুরে ও কথায় যেন শক্তিকেই আবাহন করছেন হিমাংশুবাবু।

    জন্ম সিলেটে।  হিমাংশু গোস্বামীর মাও ছিলেন সিলেটের প্রসিদ্ধ গায়িকা। তাঁর বাবা হীরালাল গোস্বামী ছিলেন জনপ্রিয় তবলাবাদক। সিলেট অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসে তালিম নেওয়া শুরু। সঙ্গীতের পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা।

    হিমাংশু বাবুর গলায় ‘সাধের লাউ বানাইল মোরে বৈরাগী’ একসময় খুবই জনপ্রিয় হয়। বাংলাদেশে নিজের সফল কেরিয়ার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশেই ছিলেন। ২৬ বছর বয়সে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লন্ডনে পাড়ি দেন।

    ‘স্বাধীনতারে তুই আমারে রক্তে ভাসাইলি’, আশির দশকের গোড়ায় এই গানে লন্ডন কাঁপিয়েছিলেন হিমাংশু গোস্বামী। ব্রিটেনের বার্মিংহাম শহরে এশিয়ান কনটেস্টে তাঁর গলায় এই গান পুরস্কার পেয়েছিল। হিন্দি, গুজরাটি, তামিল, উর্দু নানা ভাষার গানের মধ্যে হিমাংশুবাবুর গলায় এই বাংলা গানকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন, যে তাঁকে সেখানেই থেকে যেতে বলা হয়। পণ্ডিত রবিশঙ্করের অনুরোধে লন্ডনেই তাঁর সঙ্গীত জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হয়। জর্জ হ্যারিসন, আলি আকবর খান, পণ্ডিত রবিশঙ্করের মতো নামী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি

    লোকসঙ্গীত শিল্পী নজরুল ও রবীন্দ্রসঙ্গীতেও শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। রয়্যাল অ্যালবার্ট হল থেকে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার–তাঁর গলায় ভাটিয়ালি, গজল, কীর্তনের সুরে মুগ্ধ সঙ্গীতপ্রেমীরা। বিশ্বের নানা দেশ থেকে সেরা সঙ্গীত শিল্পীর খেতাব জিতেছেন। প্রায় কুড়িটি গানের অ্যালবাম রয়েছে তাঁর নামে। ১৯৮২ সালে এশিয়ান কনটেস্ট অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯০-তে শান্তিনিকেতন পদক, ২০০২ সালে জর্জ হ্যারিসন, ২০১৬ সালে মাদার টেরেসা আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড-সহ একাধিক সঙ্গীতের সম্মান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More