মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

কিশোর ফুটবলারদের আটকে পড়ার ১৬ মাস পরে ফের খুলল থাইল্যান্ডের সেই থাম লুয়াং গুহা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ ১৬ মাস বন্ধ থাকার পর ফের পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত থাম লুয়াং গুহা। গত বছরের ২৩ জুন এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে এই গুহা। তার পর থেকে এত দিন বন্ধই ছিল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় থাম লুয়াং গুহা।

ওই দিন সুদীর্ঘ গুহাটিতে অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে সে দেশের ১২ জন কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ নিখোঁজ হয়ে যান। ১৭ দিন ধরে ৯০ সদস্যের উদ্ধারকারী দলের শ্বাসরোধী অভিযানের পরে তাদের সকলকে সফল ভাবে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধারকারী দলের সদস্য, থাই নেভির প্রাক্তন কর্মী সামান গুনান মারা যান।

এর পর থেকে পর্যটকদের জন্য বন্ধই ছিল গুহাটি। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গুহার মুখ খুলে দেওয়া হয় সরকারি তরফে। প্রথম দিনেই পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গুহা-কর্তৃপক্ষ সূত্রের খবর, প্রথম দিন প্রায় হাজার দুয়েক পর্যটক গুহায় আসেন। এ জন্য এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষাও করেন তাঁরা।

মায়ানমারের সাথে সীমান্তের কাছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ থাম লুয়াং গুহা থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম গুহা। অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং বহু প্রকোষ্ঠে বিভক্ত হওয়ায় গুহার ভিতরে চলাচল করা কঠিন। ওই গুহায় অ্যাডভেঞ্চার করতে ঢোকার পরে নিখোঁজ হয়েছিল ১২ জন কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ। ফুটবলারদের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। আর তাদের কোচ এক্কাপোল জানথাওংয়ের বয়স ২৫ বছর। প্রবল বৃষ্টিতে হঠাৎ অনেকটা জল গুহায় ঢুকে পড়ায় গুহার মধ্যে আটকে পড়ে তারা সবাই।

তার পরেই বিপর্যয়।

গত ১৬ মাসে ১০ লাখেরও বেশি পর্যটক থাম লুয়াং গুহাটিতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু তাঁদের কাউকেই গুহার ভেতরে ঢুকতে দেননি কর্তৃপক্ষ। এত দিন পরে খোলার পরে এক একবার একসঙ্গে ২০ জন করে পর্যটক গুহার প্রথম চেম্বারটিতে যেতে পারছেন। এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

গত বছর ২৩ জুন থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় কিশোর ফুটবল টিমটি আটকে পরার ন’দিন পরে জীবিত অবস্থায় চিহ্নিত করা যায় তাঁদের। কিন্তু উদ্ধারকার্যের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতেই পেরিয়ে যায় কয়েকটা দিন। শেষমেশ রবিবার, ৮ জুলাই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। একটি আন্তর্জাতিক অভিযান, যাতে ব্রিটেন, অসট্রেলিয়া-সহ আরও অনেকগুলো দেশের উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞেরা অংশ নেন। ৯০ জন দক্ষ ডুবুরির উদ্ধারকারী দলের ৪০ জন ছিলেন থাইল্যান্ডের এবং বাকিরা অন্য দেশের। গুহার ভিতরে অন্ধকার, সঙ্কীর্ণ এবং জলমগ্ন পথ দিয়ে, আটকে থাকা কিশোরদের হাঁটিয়ে বা ডুব-সাঁতার দিইয়ে প্রবেশমুখে নিয়ে এসেছেন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতাল।

শুনতে সহজ হলেও, এই কাজ করা সহজ ছিল না। ওই সরু গুহার ভিতরে ডাইভিং করা ভীষণ কঠিন ছিল। শুধু কিশোরদের জন্য নয়, অভিজ্ঞ ডুবুরিদের জন্যও। কখনও গলাজলে হাঁটা, কখনও আবার ভেজা দেওয়াল বেয়ে ওঠা, কোথাও ডুবসাঁতার দেওয়া—সব মিলিয়ে একটা জটিল এবং দীর্ঘ পদ্ধতির পরিকল্পনা করেন উদ্ধারকারীরা। এক এক জন কিশোরকে দু’জন করে ডুবুরি বার করেছে। নিজের ছাড়াও, কিশোরের অক্সিজেন সিলিন্ডারও বহন করেছেন তাঁরাই।

গুহার সব চেয়ে কঠিন অংশ ছিল, মাঝামাঝি একটি বাঁক, “টি-জংশন”। যেটা এতই সংকীর্ণ যে তার ভিতর দিয়ে যাওয়ার জন্য ডুবুরিদের অক্সিজেন সিলিন্ডারও খুলে ফেলতে হয়। অবশেষে থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া কিশোর ফুটবলারদের সকলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়! উদ্ধার করা হয় তাদের কোচকেও।

Comments are closed.