কাশ্মীরের স্কুলে চলছিল পরীক্ষা, বাইরে কড়া সেনাপাহারা! এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে পালাল জঙ্গিরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন মাসের অবরুদ্ধ জীবন পার করে সবে একটু স্বাভাবিক হতে চলেছে উপত্যকা। চালু হয়েছে দোকানপাট, আসতে শুরু করেছেন পর্যটকেরা। পোস্টপেড ফোনের লাইন খুলে গেছে। খুলতে শুরু করেছে স্কুল-কলেজ। এই অবস্থাতেই ফের জঙ্গিদের আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল কাশ্মীরের পুলওয়ামায়।

পুলিশ জানিয়েছে, পুলওয়ামার দ্রাবগামে একটি স্কুলে ক্লাস টেনের পরীক্ষা চলছিল আজ। স্কুলের সামনে টহল দিচ্ছিলেন সিআরপি জওয়ানের দল। আচমকা তাঁদের লক্ষ করে ৬-৭ রাউন্ড গুলি চালায় জঙ্গিরা। কেউ আহত বা নিহত হননি। কিন্তু বাতিল হয়ে গিয়েছে পরীক্ষা।

অগস্ট মাসের ৫ তারিখে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকেই সমস্যা শুরু হয় উপত্যকায়। সন্ত্রাসের আশঙ্কারয় টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। যাতে কোনও ক্ষোভ না ছড়ায়, সে জন্য রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করা হয়। পর্যটকদের উপরেও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। শেষে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে খানিক স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।

তবে সেই সঙ্গেই বাড়ে অশান্তিও। সোপিয়ানে খুন হয়ে যান ভিন্ রাজ্য থেকে আসা তিন জন ট্রাক চালক। সোমবার দুপুরে ফের খবর পাওয়া যায়, সোপোরে জঙ্গিদের গ্রেনেড হানায় আহত হয়েছেন ১৫ জন। সন্ধ্যায় শোনা যায় বিজবেহরায় ফের এক ট্রাক ড্রাইভারকে খুন করেছে জঙ্গিরা। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পরে এই নিয়ে চারজন নিরীহ মানুষ জঙ্গিদের হাতে মারা পড়লেন।

এর পরেই ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে মঙ্গলবারই সেখানে গিয়েছেন ইউরোপের ২৮ জন সাংসদ। এ দিন পুলওয়ামার স্কুলে ভয়ের আবহেই শুরু হয়েছিল পরীক্ষা। নিরাপত্তার প্রহরা ছিল কড়া। কিন্তু জঙ্গিরা ফের প্রমাণ করে দিল তাদের সক্রিয়তা। স্কুলের সামনেই নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ করে চলল গুলি।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্রাবগামের ওই স্কুলটি মূলত পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উপত্যকার এই এলাকায় জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত থাকায় স্কুলটিতে সিআরপিএফের একটি বাঙ্কারও তৈরি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে ক্লাস টেনের একটি পরীক্ষা চলছিল। তাই স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে পাহারা দিচ্ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ানরাও। আচমকা সেখানে থাকা বাঙ্কার লক্ষ্য করা ছ-সাত রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেন পুলিশকর্মী এবং জওয়ানরাও।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। কাউকে ধরা যায়নি। গোটা এলাকায় সার্চ অপারেশন চালাচ্ছে সেনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More