ক্ষিপ্র তাদের গতি, অপরাধের গন্ধ পেলেই হাজির হবে তুরন্ত, গাজিয়াবাদের রাস্তায় নামল ‘তেজস’ বাহিনী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোশাক অতি সাধারণ। আমজনতার ভিড়ে মিশে থাকবে আর পাঁচজনের মতোই। বাইকে তাদের সওয়ারি। চেহারায় বিশেষত্ব নেই, তবে এদের শ্যেন চক্ষু থেকে অপরাধীদের নিষ্কৃতিও নেই। অপরাধ রুখতে এবং হাতেনাতে দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করতে বিশেষ বাহিনী গড়ল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

১৬ জন পুলিশকর্মী নিয়ে এই স্পেশাল গ্রুপের নাম ‘তেজস’। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল সোমবার থেকে গাজিয়াবাদের আনাচেকানাচে টহল দিতে শুরু করেছে এই ‘তেজস’ বাহিনী। ১৬ জনের মধ্যে আটজন সাব-ইনস্পেকটর ও আটজন কনস্টেবল থাকবেন। মোট আটটি বাইক দিনে-রাতে শহরের নানা জায়গায় টহল দেবে। প্রতি বাইকে একজন করে সাব-ইনস্পেকটর ও একজন করে কনস্টেবল থাকবেন।

গাজিয়াবাদের এসএসপি সুধীর কুমার সিং জানিয়েছেন, এই বাইকগুলিতে পুলিশের কোনও চিহ্ন থাকবে না। পুলিশকর্মীদের পোশাকও হবে অতি সাধারণ। অস্ত্র লুকোনো থাকবে যাতে বাইরে থেকে চোখে না পড়ে। ভিড়ে মিশে গিয়ে অপরাধীদের সনাক্ত করবেন তাঁরা।

কী কাজ হবে ‘তেজস’ বাহিনীর? ট্রাফিক আইন দেখা থেকে শহরের রাস্তায় প্রতিদিন ঘটে চলা নানা অপরাধের সুলুক সন্ধান করা। রাস্তার ব্যস্ত মোড়, স্কুল-কলেজ, অফিস চত্বর, বাজার ও পার্ক এলাকা, শহরের অলিগলিতে টহল দেবে এই বাইকবাহিনী। পুলিশ সুপার শ্লোক কুমারের কথায়, “আজকাল রাস্তাঘাটে চুরি-ছিনতাই অনেকটাই বেড়েছে। তেজসের কাজ হবে এইদিকে নজর রাখা। তা ছাড়া ইভটিজিং এবং মহিলাদের উপর বাড়তে থাকা অপরাধ রুখতেও তেজস বিশেষ ভূমিকা নেবে।”

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সামগ্রিক রিপোর্ট বলছে, গত বছরের তুলনায় অপরাধের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে রাজ্যের নানা শহরে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত বছর চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৮টি। চলতি বছর সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৮৪টিতে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো-র রিপোর্ট বলছে গত গত এক বছরে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে কয়েক হাজার। উদ্বেগজনক তথ্য হল, এনসিআরবি-র রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন-নিগ্রহ, ধর্ষণ, অপহরণ প্রভৃতি পকসো আইনের আওতাধীন অপরাধও বেড়েছে অনেকটাই। ‘তেজস’ বাহিনীর কাজ হবে সার্বিক ভাবে অপরাধের সংখ্যা কমিয়ে আনা।

এসএসপি সুধীর কুমার সিং জানিয়েছেন, বোম বা যে কোনও বিস্ফোরক দ্রব্য সনাক্ত করা এবং সেগুলিকে নিষ্ক্রিয় করার তালিমও দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ বাহিনীকে। অপরাধ রোখার পাশাপাশি, জনমানসে সচেতনতা বাড়ানোও হবে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More