৫জি নেটওয়ার্ক কী, ডিজিটাল বিশ্বে এই প্রযুক্তিই কেন চ্যালেঞ্জ

‘জি’ মানে জেনারেশন। ৫জি হল পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক পরিষেবা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল সভ্যতায় পা রেখে ফেলেছে মানুষ। এই ডিজিটাল যুগের মূল মন্ত্রই হল দুরন্ত গতি। বিন্দুমাত্র থেমে থাকার সময় নেই। সে প্রযুক্তিতেই হোক বা পরিকল্পনায়। টেকনোলজি হবে স্মার্ট, আপগ্রেডেড। এই স্মার্ট প্রযুক্তিরই আর এক নাম ৫জি।

    ‘জি’ মানে জেনারেশন। ৫জি হল পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক পরিষেবা। ১জি, ২জি দিয়ে যে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের সূচনা হয়েছিল তার আধুনিকীকরণ হয়ে ৩জি পেরিয়ে ৪জি-র জমানায় রয়েছে মানব সভ্যতা। এর আগামী সংস্করণ হল ৫জি। যদিও পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক চলে এসেছে বিশ্বের অনেক দেশেই। চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতে এখনই ৫জি প্রযুক্তি রয়েছে। ডিজিটাল নেটওয়ার্কের এই দৌড়ে সামিল হতে চলেছে ভারতও। টেলিকম শিল্পের সঙ্গে একজোট হচ্ছে ইন্টারনেট বা ডিজিটাল পরিষেবা। ৫টি নেটওয়ার্কের রূপরেখা তৈরির জন্য ‘৫জি ইন্ডিয়া ফোরাম’ গড়েছে সেলুলার অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (সিওএআই)।

    ৫জি নেটওয়ার্ক আসলে কী?

    পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক। ৪জি নেটওয়ার্কের থেকে ১০০ গুণ বেশি উন্নত ও দ্রুত গতির। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৫জি প্রযুক্তি বহু যোজন পিছনে ফেলবে ৪জি-কেও। ইন্টারনেটের স্পিড হবে দুরন্ত। ওয়ারলেস নেটওয়ার্কে একসঙ্গে বহু ডিভাইসকে যুক্ত করা যাবে। অনেক বেশি পরিমাণ ফাইল ট্রান্সফার করা যাবে নিমেষের মধ্যে। বাফারিং শব্দটাই মুছে যাবে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে। ডিজিটাল নেটওয়ার্কে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

    এই ৫জি টেকনোলজি পাঁচটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে—

    মিলিমিটার ওয়েভ— মোবাইলে কল করার সময় বা ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় মোবাইল একটি মাধ্যম ব্যবহার করে যাকে বলে তরঙ্গ মাধ্যম। এই তরঙ্গের নির্দিষ্ট কম্পাঙ্ক থাকে। যখন ট্রাফিক বেশি থাকে অর্থাৎ একসঙ্গে অনেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, তখন হামেশাই সিগন্যাল ড্রপ হয়। তাই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করেন এই তরঙ্গের দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানোর। ৫জি-তে পরীক্ষামূলকভাবে মিলিমিটার তরঙ্গ বা ৩০-৩০০ গিগাহার্টজ কম্পাঙ্কের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ব্যবহার করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে অনেক বেশি গতিতে ও দ্রুত নেটওয়ার্ক পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভেরিজ়ন, এটিঅ্যান্ডটি টেলিকম অপারেটরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

    স্পিড সেল—মিলিমিটার ওয়েভের ক্ষমতা যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু স্পিড সেল। উচ্চ কম্পাঙ্কের মিলিমিটার তরঙ্গ কোনও বাধা অতিক্রম করতে পারে না। এই ঘাটতি মেটানোর জন্যই স্পিড সেল। ছোট ছোট টাওয়ার বসানো হবে খুব কাছাকাছি। তাদের মাঝে দূরত্ব এতটাই কম থাকবে যে একটি টাওয়ারে সিগন্যালের সমস্যা হলে অন্য টাওয়ার থেকে সিগন্যাল চলে আসবে। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে নেটওয়ার্ক পরিষেবা ছড়িয়ে দিতে পারবে স্পিড সেল।

    ম্যাক্সিমাম মিমো—মিমো (MIMO) অর্থাৎ ম্যাক্সিমাম ইনপুট ও ম্যাক্সিমাম আউটপুট টেকলোনজি। ৫জি-র এই প্রযুক্তিতে বিরাট সেল টাওয়ার ব্যবহার করা হয়। যে কোনও প্রতিকূল অবস্থাতেও কোনওরকম বাফারিং ছাড়াই একইরকম স্পিডে নেটওয়ার্ক পরিষেবা ছড়িয়ে দিতে পারে এই মিমো।

    বিমফর্মিং— এই প্রযুক্তি হল অনেকটা ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেমের মতো। একটা নির্দিষ্ট দিকে ব্যবহারকারীদের কাছেই সিগন্যাল পাঠাবে। চারদিকে নয়। যার কারণেই একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহকের কাছে উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে যাবে।

    ফুল ডুপ্লেক্স—ডেটা ট্রান্সফার হবে নিরবচ্ছিন্নভাবে। ল্যান্ডলাইন ফোন, শর্ট-ওয়েভ রেডিওতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

    ৫জি পরিষেবার স্পিডে যে কোনও এইচডি সিনেমা মাত্র ৩ সেকেন্ডে ডাউনলোড হবে। বহু সংখ্যক ডিভাইসকে যুক্ত করতে পারবে এই পরিষেবা। চালকবিহীন গাড়ি চলাচল কিংবা বাড়ির বাইরে থেকে ভিতরের বৈদ্যুতিন পণ্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ৫জি-তে। বিশষজ্ঞরা বলছেন, ৫জি পরিষেবায় দূরে থেকেই চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারবেন ডাক্তাররা। অস্ত্রোপচার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বহু দূর থেকেই। প্রত্যন্ত এলাকা বা অতি দুর্গম এলাকা থেকেও নেটওয়ার্ক পরিষেবা পাওয়া যাবে।

    কিন্তু ৫জি পরিষেবা নিয়ে সমস্যাও রয়েছে। প্রথমত, এই ৫জি টেকনোলজির খরচ অনেক বেশি। দ্বিতীয়ত, এই পরিষেবা পেতে হলে নেটওয়ার্ক অপারেটরদের প্রযুক্তিতে আরও বেশি আধুনিকীকরণ করতে হবে। ৫জি-তে ব্যান্ডউইথ স্পিড অনেক বেশি। এমনতিতে ৩.৫ গিগাহার্টজের বেশি কম্পাঙ্গ লাগে যা ৩জি ও ৪জির থেকে অনেক বেশি। ভারতের মতো দেশে যেখানে ৪জি পরিষেবা নিয়েই বিস্তর অভিযোগ রয়েছে সেখানে ৫জি পরিষেবা দেওয়া কতটা সম্ভব সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় ৫জি চলে এলেও তাকে ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণে রেখে অপারেট করতে আরও কয়েকবছর সময় চলে যাবে। ২০২৫ এর আগে ৩জি বা ৪জিকে পুরোপুরি পিছনে ফেলে ৫জি নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা হয়ত সম্ভব হবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More