শনিবার, মে ২৫

#Breaking: সিনেমা হলে দেখাতে হবে ‘ভবিষ্যতের ভূত’, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্ধ রাখা যাবে না প্রদর্শনী। সিনেমা হলে দেখাতে হবে অনীক দত্তর ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’। এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। অবিলম্বে ছবির প্রদর্শন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ছবির প্রদর্শন নিয়ে যাতে আর কোনও ঝামেলা না হয় সেদিকে নজর রাখার জন্য মুখ্য ও স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-কে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সিনেমা হলে ফের ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ফেরানোর দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল ছবির প্রযোজনা সংস্থা Indibility Creative Private Limited (ICPL)। সেই মামলার ভিত্তিতেই এ দিন রায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। অবশেষে জনগণের মনে খানিক স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্টের এই রায়। কবে থেকে ফের সিনেমা হলে দেখা যাবে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ এখন তারই অপেক্ষা।

সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল অনীক দত্তর ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’। কিন্তু রিলিজের একদিনের মধ্যেই শহরের প্রায় সব সিঙ্গল স্ক্রিন হল এবং মাল্টিপ্লেক্সে বন্ধ করে দেওয়া হয় ছবির প্রদর্শনী। কোথাও বলা হয় ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’। কেউ বা বলেন ‘ওপর মহলের নির্দেশ আছে’। তবে কে বা কারা এই ওপর মহল তা অবশ্য জানা যায়নি। এদিকে আগাম টিকিট কেটে ছবি দেখতে আসা দর্শকদের টাকা ফেরত দিয়ে দেয় হল কর্তৃপক্ষ।

তবে রিলিজের পরেই যে কয়েকজন ছবিটি দেখেছিলেন একাংশের দাবি, হালফিলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের অনেক কিছুই নিজের ছবিতে তুলে ধরেছেন অনীক। তাঁর ছবিতে যে বার্তা রয়েছে তা এই যে, রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরোধিতা করলে হতে হবে কোণঠাসা। এমনকী ভূতের মতোও দশা হতে পারে। সেই সঙ্গে ছবিতে দেখানো হয়েছে ভিলেনের মাথায় অক্সিজেন কম যায়। ব্যবহার করা হয়েছে চড়াম চড়াম’ জাতীয় শব্দ। ‘হোক কলরব’-এর মতো আন্দোলনও উঠে এসেছে ছবিতে। দর্শক, কলাকুশলী এবং টলিপাড়ার একটা বড় অংশের মতে এ জাতীয় জিনিস ছবিতে রাখার জন্যই অকারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনীক দত্তর ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’।

আচমকাই শহর জুড়ে ছবির প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদে সরব হন টলিপাড়ার তারকারাও। ‘ভবিষ্যতের ভূত’ হলে ফেরানোর দাবিতে রাস্তায় নামেন টলিউডের বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী। আয়োজন করা হয় বিশাল পথসভার। একটা ছবি এ ভাবে শহরে নিষিদ্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে খোলা চিঠি লিখেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও।

প্রসঙ্গত, অনীক দত্তর এই ছবির প্রদর্শন বন্ধ হওয়ার পরেই ময়দানে নামে ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর প্রযোজনা সংস্থা। প্রথমে তারা লিখিত অভিযোগ জানায় Eastern India Motion Pictures Association (EIMPA)-এর কাছে। প্রযোজক কল্যাণময় চট্টোপাধ্যায় জানান, ৪৪টি হলে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ দেখানোর ছাড়পত্র পেয়েছিল ছবির প্রযোজনা সংস্থা Indibility Creative Private Limited (ICPL)। অভিযোগ ছিল, যতগুলো হল পাওয়ার কথা ছিল তার থেকে কম সংখ্যক হল পেয়েছিল ‘ভবিষ্যতের ভূত’। তবে যে যে হলে ছবি দেখানোর অনুমতি ছিল সেই সব হলের মালিকরা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিনেমা প্রদর্শনের জন্য আগাম টাকাও নিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও বন্ধ করে দেওয়া হয় ছবির প্রদর্শন।

Eastern India Motion Pictures Association (EIMPA)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ICPL জানতে চায়, কোনও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই কীভাবে বন্ধ করা হলো ছবির প্রদর্শন? প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী কোনও ছবির প্রদর্শন বন্ধ করার অধিকার একমাত্র সেন্সর বোর্ডের। বাকি কোনও সংস্থা তা করতে পারে না। প্রযোজক কল্যাণময় চট্টোপাধ্যায়ের বলেন, এ ভাবে ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে সেন্সর বোর্ড ও আদালতের অবমাননা করা হয়েছে।

এরপর ৬ মার্চ ‘ভবিষ্যতের ভূত’ সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বুধবার মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। মামলা করেন দুই সিনেমাপ্রেমী। তাঁদের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানান, মামলার আবেদনে বলা হয়েছে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে ছবিটি ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায়। তাঁরা কলকাতার কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্সে ছবিটি দেখতে গিয়ে জানতে পারেন সেটির প্রদর্শন বন্ধ রয়েছে। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া কোনও ছবির প্রদর্শনী বন্ধ রাখা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলা হয় মামলার আবেদনে। মামলার আবেদনকারীরা হাই কোর্টের কাছে এও জানতে চান, কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার কোনও নির্দেশ দিয়ে ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে বলেছে কিনা।

শুক্রবার হাইকোর্টে এই মামলা উঠেছিল বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে। সেখানে রাজ্য সরকারের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানিয়েছেন, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ বন্ধের জন্য কোনওরকম নির্দেশ দেয়নি রাজ্য সরকার। এমনকী প্রাথমিক ভাবে পরিচালক অনীক দত্তকে কলকাতা পুলিশের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়। জানতে চাওয়া হয়, ছবির বিষয়বস্তু। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই চিঠি নিয়েও বিশেষ কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Shares

Comments are closed.