কোনও ভাষাই চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, কেন্দ্রের হিন্দি-নীতির বিরুদ্ধে সরব দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দেশ-এক ভাষার যুক্তিতে হিন্দিকে সারা দেশের জাতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশ জুড়ে প্রতিবাদের কণ্ঠ জোরালো হচ্ছে কয়েক দিন ধরেই। এবার সেই প্রতিবাদী কণ্ঠে গলা মেলালেন থালাইভা, দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত।

    এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক পদক্ষেপের প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে রজনী মক্কল মন্দরম (আরএমএম) সুপ্রিমো রজনীকান্তকে। কিন্তু বুধবার চেন্নাইয়ের একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বলেন, “কোনও ভাষাই চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। দক্ষিণ বা উত্তর, কোনও রাজ্যই এই পদক্ষেপ মেনে নেবে না।” তবে সেই সঙ্গে তিনি এ কথাও মনে করিয়ে দেন, “জাতীয় ভাষা হিসেবে একটি স্বীকৃত ভাষা দেশের উন্নয়নের পক্ষে ভাল। দুর্ভাগ্যবশত আমরা এটা করতে পারি না।”

    হিন্দিকে জাতীয় ভাষা হিসেবে চালু করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উস্কে দেওয়া বিতর্কের বিরোধিতা করেছেন আরও বহু অভিনেতা। যার শুরুটা করেছিলেন দক্ষিণেরই বিখ্যাত অভিনেতা কমল হাসান। এবার সরব হলেন রজনীকান্তও।

    মাক্কাল নিধি মালম দলের প্রধান কমল হাসান আগেই জানিয়েছিলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা ঠিক নয়। তিনি নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ভাষা-যুদ্ধের হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, এটা ভারত বা তামিলনাডু– কারওই কাম্য নয়। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের গণতন্ত্র গঠনের সময়ে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন কোনও শাহ, সুলতান বা সম্রাট সেই প্রতিশ্রতি ভাঙতে পারবেন না। দেশের অধিকাংশই আনন্দের সঙ্গে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গায়, যা বাংলায় লেখা। কারণ, যে কবি এটি লিখেছে‌ন তিনি সমস্ত ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান করেই লিখেছেন। তবেই সেটা আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হয়েছে।”

    গত শনিবার জাতীয় হিন্দি দিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ভাষার মাধ্যমেই ভারতকে একসূত্রে বাঁধার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সর্বাধিক কথিত ভাষা হল হিন্দি। আর এই ভাষাই দেশের মানুষের মধ্যে একতা তৈরির ক্ষমতা রাখে।তাই হিন্দিকে দেশের জাতীয় ভাষা হিসাবে ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এর পরেই প্রতিবাদ ঘনায় দেশ জুড়ে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই মন্তব্যের সমালোচনা করেন। এমনকী বিজেপি শাসিত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পাও সাফ জানিয়ে দেন, হিন্দিকে তাঁরা কখনওই রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে মেনে নেবেন না।

    পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৫০ জন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বও রাজ্যের মানুষকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠার আহ্বান জানান। কবি সুবোধ সরকার, কবি-গদ্যকার বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, আবৃত্তিকার ঊর্মিমালা বসু ও জগন্নাথ বসু, চিত্রপরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য প্রমুখ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা সকলকে অনুরোধ করেন, বাংলা ভাষাকে তাঁদের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনও প্রয়াসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে। জানানো হয়, অদূর ভবিষ্যতে আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষাও বিপন্ন হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More