মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

বিশ্বের সেরা সুন্দরী এই সুপারমডেল, ‘গোল্ডেন রেশিও’ মেপে বললেন গ্রিক বিজ্ঞানীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে পটলচেরা চোখ, ধনুকের মতো বাঁকানো ভুরু আর টিকোলো নাক মানেই ডাকসাইটে সুন্দরী। সৌন্দর্যের এমন বিশ্লেষণ কীভাবে এসেছিল জানা নেই, তবে গ্রিক গণিতজ্ঞদের সৌন্দর্যের সংজ্ঞা কিছুটা আলাদা। মুখের গড়ন, চিবুকের অনুপাত, চোখ-নাকের মধ্যে সামঞ্জস্য—এই সবকিছু যদি অঙ্কের ফর্মুলার সঙ্গে মিলে যায় তবেই তাকে প্রকৃত সুন্দরী বলা যায়। গোটা বিশ্ব গ্রিক গণিতজ্ঞদের এই ফর্মুলাই মেনে চলে। সেদিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মহিলার খেতাব পেয়েছেন আমেরিকার সুপারমডেল ইসাবেলা খ্যর হাদিদ।

বিজ্ঞানীরা রীতিমতো পরীক্ষানিরীক্ষা করে বলেছেন, ইসাবেলা শুধু সুন্দরীই নন, তাঁর রূপ মুগ্ধ করার মতো। এমন এক চটক আছে তাঁর মধ্যে যার আকর্ষণ দুর্নিবার। গ্রিক গণিতজ্ঞ এবং বিজ্ঞানীদের ফর্মুলামাফিক প্রতি বছরই ‘গোল্ডেন রেশিও অব বিউটি পিএইচআই স্ট্যান্ডার্ড’-এর অনুপাতে সারা বিশ্ব থেকে সেরা সুন্দরীদের বেছে নেওয়া হয়। এই বছর সেই তালিকার শীর্ষেই নাম উঠেছে ইসাবেলা ওরফে বেলা হাদিদের। বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন, ‘ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেট মডেল’ বেলার ধারেকাছে কেউ নেই।

এই গোল্ডেন রেশিও কী?

শুধু মানুষ নয়, পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর এবং আকর্ষণীয় সবই এই গোল্ডেন রেশিও দিয়ে মাপা হয়। ধরা যাক একটা ফুল কতটা সুন্দর সেটা বোঝা যাবে গোল্ডেন রেশিও-র ফর্মুলায় ফেলে। এই ফর্মুলা হচ্ছে ১.৬১৮: ১—যাকে বলা হয় পিএইচআই (Phi) । প্রথম এই ফর্মুলা আবিষ্কার করেন ডঃ কেন্ড্রা স্কিমিড।

বায়োস্ট্যাটিসটিকসের এই অধ্যাপক প্রথমে মুখের দৈর্ঘ্য মাপেন। তারপর প্রস্থ। এবার দৈর্ঘ্যকে তার প্রস্থ দিয়ে ভাগ করে ফেলেন। ফলাফল যদি ১.৬-এর মধ্যে থাকে তাহলে তাকে সুন্দর বলা যায়। এটাই গোল্ডেন রেশিও। অর্থাৎ বলা যায় একজন সুন্দর মানুষের মুখের দৈর্ঘ্য তার প্রস্থের থেকে ১ ১/২ বেশি। এরপরেও অবশ্য কপাল, চিবুক, চোখ-নাক ইত্যাদির অনুপাত বার করেছিলেন অধ্যাপক স্কিমিড।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে মানুষের ক্ষেত্রে এই গোল্ডেন রেশিও হল মুখের একটা ম্যাপ। যেটা সঠিক ভাবে বলে দেয় কে প্রকৃত সুন্দরী আর কার সৌন্দর্য শুধুই কৃত্রিম।

কতটা সুন্দর বেলা হাদিদ..

View this post on Instagram

Who is she

A post shared by 🦋 (@bellahadid) on

এবার দেখা যাক সুপারমডেল বেলা কতটা সুন্দরী। গোল্ডেন রেশিওর ফর্মুলায় ফেলে দেখা গেছে, ২৩ বছরের বেলার মুখ ৯৪.৩৫ শতাংশ পারফেক্ট। তাঁর চোখ, নাক, চিবুক, কপাল সবকিছুরই অনুপাত একেবারে ফর্মুলামাফিক। লন্ডনের হার্লে স্ট্রিটের বিখ্যাত কসমেটিক সার্জন ডাক্তার জুলিয়ান ডি সিলভা এই গোল্ডেন রেশিও-র ফর্মুলায় ফেলে সুন্দরীদের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বেলার ঠোঁটের পর থেকে থুঁতনি অবধি যেন নিখুঁত ছাঁচে তৈরি করা। ওই অংশ ৯৯.৭ শতাংশ পারফেক্ট। প্লাস্টিক সার্জারি ছাড়াই প্রাকৃতিক ভাবে এমন নিখুঁত গড়ন খুব একটা দেখা যায় না।

বেলা হাদিদের পরেই যিনি গোল্ডেন রেশিও-র ফর্মুলা মাফিক সুন্দরীর খেতাব পেয়েছেন তিনি পপ গায়িকা বিয়ন্সে। ডাক্তার জুলিয়ান ডি সিলভা জানিয়েছেন বিয়ন্সে ৯২.৪৪ শতাংশ নিখুঁত। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মডেল-অভিনেত্রী অ্যামবার হার্ড, তাঁর রেশিও ৯১.৮৫ শতাংশ। অ্যামবারের থেকে সামন্যই পিছিয়ে পপস্টার অ্যারিয়ানা গ্রান্ডে। তাঁর রেশিও ৯১.৮১ শতাংশ।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

সাতমহলা আকাশের নীচে

 

Comments are closed.